জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে আটক হয়ে পরে মুচলেকায় মুক্তি পাওয়া ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাইশাকান্দা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী দেবাশীষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া তিনটি ফৌজদারি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশি নথি অনুযায়ী, এসব মামলার মধ্যে রয়েছে একটি শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলা, একটি চাঁদাবাজি, অবৈধ আটক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা মামলা এবং একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ১০ জুন ঢাকা জেলার ধামরাই থানার মামলা নং-১১/১৭৯-এ দেবাশীষ চৌধুরী এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৭০, ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, অবৈধভাবে আটক রাখা, মারধর, ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয় রয়েছে।
এছাড়া ২০১৮ সালের ৫ জুলাই ধামরাই থানায় দায়ের হওয়া মামলা নং-৮/২০৯-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১)/৩০ ধারায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে কৌশলে নিয়ে ইয়াবা সেবন করিয়ে ধর্ষণ করা হয়। সে সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মামলা দায়েরের পর কয়েক দিন পর্যন্ত প্রধান আসামি পলাতক ছিলেন।
এ ছাড়া ২০১৩ সালের ২৬ জুন ধামরাই থানার মামলা নং-৪৮-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারায়ও তাকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। ওই মামলাটি যৌতুক-সংক্রান্ত নির্যাতনের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
সর্বশেষ গত ২ জুলাই রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা দেবাশীষ চৌধুরীকে আটক করে। পরে তিনি লিখিতভাবে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না মর্মে মুচলেকা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ছেড়ে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আটকের সময় তার কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের একাংশ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
তবে উল্লেখ্য, পূর্বের মামলাগুলোর অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে কি না বা সেগুলোর বর্তমান বিচারিক অবস্থার বিষয়ে এই প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
জাবি প্রতিনিধি 



















