বাংলাদেশ ০১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখে নীতি সুদহার (পলিসি রেপো রেট) আগের মতো ১০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্প, কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এ সময় গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ (২০০৩ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি কম ও স্থিতিশীল রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রকৃত বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করাও এ নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থার সংকট এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী ও বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সরকারের উচ্চ ঋণগ্রহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন বিঘ্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। কঠোর মুদ্রানীতির ফলে তা কমে ২০২৬ সালের মে মাসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অবস্থান বহাল রাখা হয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত

প্রকাশিত: ০৬:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখে নীতি সুদহার (পলিসি রেপো রেট) আগের মতো ১০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্প, কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এ সময় গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ (২০০৩ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি কম ও স্থিতিশীল রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রকৃত বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করাও এ নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থার সংকট এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী ও বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সরকারের উচ্চ ঋণগ্রহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন বিঘ্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। কঠোর মুদ্রানীতির ফলে তা কমে ২০২৬ সালের মে মাসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অবস্থান বহাল রাখা হয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত