মাত্র এক দিনের ভারী বর্ষণেই বেনাপোল স্থলবন্দরের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল চিত্র ফুটে উঠেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বৃষ্টির পানিতে বন্দরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় শেডগুলোতে রাখা আমদানিকৃত মূল্যবান পণ্য ভিজে নষ্ট হয়েছে।
এতে আমদানিকারকদের কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এমন অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে অনেকেই এই বন্দর ব্যবহার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের ভেতরে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত জমে ড্রেন উপচে শেডগুলোর ভেতরে প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে ১২, ১৩, ১৭ ও ১৮ নম্বর শেড সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে।
এসব শেডে রাখা শত শত টেক্সটাইল রোল, সুতা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কাঁচামাল পানিতে তলিয়ে যায়। রোলের নিচের অংশ পানিতে ভিজে যাওয়ায় এসব পণ্য ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী আমদানিকারকদের দাবি, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বন্দরে এ ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ স্থায়ী বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে এবারও তাদের কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সময়মতো পণ্য খালাস করতে না পারার পাশাপাশি পানিতে পণ্য ভিজে যাওয়ায় তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ পরিস্থিতিতে বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি এবং স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর হওয়া সত্ত্বেও বেনাপোল বন্দরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
তারা অনতিবিলম্বে পানি নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি শেডগুলোর উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পানি নিষ্কাশনের পাম্প ও ড্রেন সংস্কারেরও দাবি জানান। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রাজস্ব উৎপাদনকারী বন্দরটি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
kalprakash.com/IM
মোঃ মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি 























