বাংলাদেশ ০৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ

খেলাপি ঋণের ১ লাখ কোটি টাকার সুদ মওকুফের সুযোগ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

খেলাপি ঋণের বোঝা কমাতে এবং ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিট পরিচ্ছন্ন করতে নতুন নীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সার্কুলারের আওতায় বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণগ্রহীতাদের চার্জড (আরোপিত) ও আনচার্জড (অনারোপিত) সুদ মওকুফের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতারা কেবল মূল ঋণের অর্থ পরিশোধ করেই এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর স্থগিত সুদ হিসাবে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার অনারোপিত সুদ জমা হয়েছে। এই সুদ মওকুফ করা হলে খেলাপি ঋণের হার ৩০.৬০ শতাংশ থেকে প্রায় ২৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী এই উদ্যোগকে অনৈতিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে ঋণখেলাপিরা আরও উৎসাহিত হবে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুহাম্মদ এ (রুমি) আলী সতর্ক করে বলেন, ব্যাপক হারে সুদ মওকুফ করা হলে ব্যাংকগুলোর আয়, মূলধন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি কর-সংক্রান্ত জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অনাদায়ী ঋণ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই নীতি কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে খেলাপি ঋণের স্থায়ী সমাধানের জন্য অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠন, কার্যকর ঋণ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পুনঃতফসিল করা ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশই আবার খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা বিদ্যমান পুনঃতফসিল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২

খেলাপি ঋণের ১ লাখ কোটি টাকার সুদ মওকুফের সুযোগ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত: ০৭:৩৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

খেলাপি ঋণের বোঝা কমাতে এবং ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিট পরিচ্ছন্ন করতে নতুন নীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সার্কুলারের আওতায় বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণগ্রহীতাদের চার্জড (আরোপিত) ও আনচার্জড (অনারোপিত) সুদ মওকুফের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতারা কেবল মূল ঋণের অর্থ পরিশোধ করেই এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর স্থগিত সুদ হিসাবে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার অনারোপিত সুদ জমা হয়েছে। এই সুদ মওকুফ করা হলে খেলাপি ঋণের হার ৩০.৬০ শতাংশ থেকে প্রায় ২৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী এই উদ্যোগকে অনৈতিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে ঋণখেলাপিরা আরও উৎসাহিত হবে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুহাম্মদ এ (রুমি) আলী সতর্ক করে বলেন, ব্যাপক হারে সুদ মওকুফ করা হলে ব্যাংকগুলোর আয়, মূলধন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি কর-সংক্রান্ত জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অনাদায়ী ঋণ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই নীতি কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে খেলাপি ঋণের স্থায়ী সমাধানের জন্য অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠন, কার্যকর ঋণ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পুনঃতফসিল করা ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশই আবার খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা বিদ্যমান পুনঃতফসিল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।