শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সকাল ৭:৫৪:১৮

বিদেশি বিনিয়োগে পিছিয়ে বাংলাদেশ, আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় ব্যবধান কয়েক গুণ

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৬
শেয়ার: mail
বিদেশি বিনিয়োগে পিছিয়ে বাংলাদেশ, আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় ব্যবধান কয়েক গুণ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আবারও স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে, যেখানে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে ব্যবধান কয়েক গুণ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে আয়োজিত এক উচ্চ পর্যায়ের সংলাপে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আংকটাড, ইউএনডিপি এবং বিডা যৌথভাবে ‘ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউ ইমপ্লিমেন্টেশন রিপোর্ট’ প্রকাশ করে। সেখানে গত এক দশকের বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের এফডিআই স্টক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৮২৯ কোটি ডলার। একই সময়ে ভিয়েতনামে তা ২৪,৯১৪ কোটি ডলার, ইন্দোনেশিয়ায় ৩০,৫৬৬ কোটি ডলার এবং কম্বোডিয়ায় ৫,২৬৬ কোটি ডলার। ফলে ভিয়েতনাম প্রায় ১৩ গুণ, ইন্দোনেশিয়া ১৭ গুণ এবং কম্বোডিয়া প্রায় ৩ গুণ এগিয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এফডিআই প্রবাহে ধারাবাহিক দুর্বলতা রয়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে বিনিয়োগপ্রবাহ ১৮০ কোটির বেশি ডলারে পৌঁছেছিল, ২০২৪ সালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে মোট এফডিআই স্টক তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থেকে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে এফডিআই আকর্ষণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নের দুর্বলতা বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। তিনি বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে গতি পরিবর্তনের ওপর জোর দেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, জ্বালানি ঘাটতি এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশাপাশি শ্রম অসন্তোষ, কিছু শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে নেমে আসে এবং মূল্যস্ফীতি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়, যা সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করে।

তবে প্রতিবেদনে কিছুটা আশার ইঙ্গিতও রয়েছে। ২০২৫ সালের প্রাথমিক সূচকে পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের মাধ্যমে এফডিআই প্রবাহে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে বিনিয়োগ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যেতে পারে।

kalprakash.com/SS

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বিদেশি বিনিয়োগে পিছিয়ে বাংলাদেশ, আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় ব্যবধান কয়েক গুণ

বিস্তারিত কমেন্টে