বাংলাদেশ ১০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান Logo নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন Logo কুবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল করীম Logo আড়াই মাস পর খুলল হরমুজ প্রণালি, চীনের জাহাজগুলোকে সীমিত অনুমতি দিল ইরান Logo ট্রাম্প–শি জিনপিং বৈঠকে ইরান ইস্যুতে ঐকমত্য, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত Logo ঈদযাত্রায় ঝুঁকি এড়াতে বিআইডব্লিউটিএর ১৬ দফা নির্দেশনা Logo ঈদের ছুটি পাবেন না যারা, কোন কোন পেশা থাকছে আওতার বাইরে Logo শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদক জব্দ Logo বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো Logo ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় বাড়তে পারে তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত সপ্তাহ শেষে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়ায়, যা বছরের সর্বোচ্চ ১১৯ দশমিক ৪৫ ডলার থেকে কম হলেও নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা পলিমার্কেটের এক জরিপে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম চলতি মাসেই ১০৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পার্লামেন্ট স্পিকার।

আলোচনার পর উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত চাপানোর চেষ্টা করেছে যা তারা যুদ্ধক্ষেত্রেও অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে ভ্যান্স অভিযোগ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে রাজি হয়নি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পএবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত আবার শুরু হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা না হলে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। নেতানিয়াহুও জানান, লক্ষ্য পূরণ না হলে প্রয়োজনে অভিযান পুনরায় শুরু করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে তেলের দাম দ্রুত ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে। কারণ ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যা বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ।

এছাড়া সম্ভাব্য সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি এবং ইয়েমেনভিত্তিক গোষ্ঠীর কারণে লোহিত সাগরে পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যেখানে বিশ্ব তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়।

বাজার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দাম ওঠানামা করলেও আলোচনায় অচলাবস্থার খবরে আবার ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে চলতি সপ্তাহে তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: ট্রেডিং ভিউ

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় বাড়তে পারে তেলের দাম

প্রকাশিত: ১২:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত সপ্তাহ শেষে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়ায়, যা বছরের সর্বোচ্চ ১১৯ দশমিক ৪৫ ডলার থেকে কম হলেও নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা পলিমার্কেটের এক জরিপে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম চলতি মাসেই ১০৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পার্লামেন্ট স্পিকার।

আলোচনার পর উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত চাপানোর চেষ্টা করেছে যা তারা যুদ্ধক্ষেত্রেও অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে ভ্যান্স অভিযোগ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে রাজি হয়নি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পএবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত আবার শুরু হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা না হলে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। নেতানিয়াহুও জানান, লক্ষ্য পূরণ না হলে প্রয়োজনে অভিযান পুনরায় শুরু করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে তেলের দাম দ্রুত ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে। কারণ ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যা বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ।

এছাড়া সম্ভাব্য সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি এবং ইয়েমেনভিত্তিক গোষ্ঠীর কারণে লোহিত সাগরে পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যেখানে বিশ্ব তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়।

বাজার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দাম ওঠানামা করলেও আলোচনায় অচলাবস্থার খবরে আবার ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে চলতি সপ্তাহে তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: ট্রেডিং ভিউ

kalprakash.com/SS