ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের একটি গ্রামে মানবিকতার সীমা ছাপিয়ে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে। মাত্র চার বছর বয়সী জমজ দুই কন্যাশিশুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তাদের নিজের পরিবার—শুধু তারা মেয়ে হওয়ায়।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুদের বাবা শ্রীশৈলম, দাদা অশোক, দাদি লাবণ্য এবং চাচা রাকেশ—এই চারজন মিলে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। পরিবারের দীর্ঘদিনের ‘ছেলে সন্তানের’ আকাঙ্ক্ষাই এই নির্মম সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
তদন্তে উঠে এসেছে, বিয়ের পর থেকেই শ্রীশৈলম কন্যাসন্তান চাননি। স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যখন জানা যায় যে সন্তান মেয়ে হবে, তখনই তিনি গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। সন্তান জন্ম নেওয়ার পরও তাদের মেনে নিতে পারেননি—এমনকি হাসপাতালে গিয়ে একবারও শিশুটিকে দেখেননি।
পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই মানসিকতার ছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, মেয়েদের ভবিষ্যতে বিয়েতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে, যা তাদের কাছে ‘বোঝা’ মনে হচ্ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্জন সময় বেছে নিয়ে দুই শিশুকে কৃষিজমিতে নিয়ে যান শ্রীশৈলম। এরপর একে একে দুই কন্যাকে কুয়োয় ফেলে দেন। দ্বিতীয় শিশুটি বাঁচার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশি ভাষ্যে এটি “চরম নির্মম ও অমানবিক” হত্যাকাণ্ড।
পরিবার ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর জন্য ভুয়া নাটক সাজায়, কিন্তু অসঙ্গতির কারণে গ্রামবাসীরা সন্দেহ করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনা প্রকাশ পায়।
চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কুয়ো থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র কন্যাশিশু হওয়ার কারণে এভাবে জীবন কেড়ে নেওয়া ভয়াবহ এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—একবিংশ শতাব্দীতেও সমাজের একাংশে কন্যাশিশু এখনও অবাঞ্ছিত কি না।
সূত্র: এনডিটিভি
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























