বাংলাদেশ ০৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo হয়রানি কমাতে ডিজিটাল কর ব্যবস্থা প্রয়োজন Logo মণিরামপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থী নিহত Logo অপহরণ নয়, ধর্ষণের মামলা এড়াতে ছাত্রশিবির নেতার ‘আত্মগোপন’: পুলিশ Logo লালমনিরহাট চেম্বার নির্বাচনে সভাপতি পদে ভোটগ্রহণ, ব্যবসায়ী মহলে উৎসবের আমেজ Logo রাঙামাটিতে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo এসএমসিতে প্রোগ্রাম অফিসার নিয়োগ Logo পেনশনে আসছে বড় পরিবর্তন: কার কত বাড়বে? Logo এআইভিত্তিক সাইবার প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে গুগলের মামলা Logo ব্রাজিলের হৃদয়ে ইসলামী স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ওমর ইবনে আল-খাত্তাব মসজিদ Logo প্রেমের গুঞ্জনে নতুন ইঙ্গিত দিয়ে পোস্ট মুছে ফেললেন প্রভা

ফিরে আসো রবের আহ্বানে: তওবা, দোয়া ও আশার বার্তা

মানুষ ভুল করে, পথভ্রষ্ট হয়—আবার ফিরে আসে। এই চিরন্তন সত্যকেই পবিত্র কোরআন অত্যন্ত গভীর ও হৃদয়স্পর্শী ভাষায় তুলে ধরেছে। আল্লাহ তাআলা শুধু শাস্তিদাতা নন; তিনি পরম দয়ালু, যিনি নিজেই বান্দাদের তওবার পথ দেখান এবং তাঁর দিকে ফিরে আসতে আহ্বান জানান।

হযরত আদম (আ.)-এর ঘটনা আমাদের জন্য তওবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে বসবাসের অনুমতি দিলেও একটি গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তিনি সেই সীমা লঙ্ঘন করেন। এরপর আল্লাহর কাছ থেকে কিছু বাণী লাভ করে তিনি তওবা করেন এবং আল্লাহ তা কবুল করেন।
এই তওবার বাণী ছিল—
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের উপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।” (সুরা আরাফ: ২৩)

এই ঘটনা আমাদের শেখায়—পাপ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই হলো মুক্তির পথ। কারণ তিনি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।

একই শিক্ষা আমরা পাই হযরত ইউনুস (আ.)-এর ঘটনায়। বিপদের অন্ধকারে তিনি আল্লাহকে ডেকে বলেছিলেন—
“আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।”
আল্লাহ তাঁর এই দোয়া কবুল করেন এবং তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দেন। এটি প্রমাণ করে—সত্যিকার অনুতাপ ও একনিষ্ঠ দোয়া কখনো বিফল হয় না।

হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর ঘটনাও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। তিনি সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, আর আল্লাহ তাঁকে ইয়াহইয়া (আ.)-এর মতো নেক সন্তান দান করেন। এতে বোঝা যায়, ধৈর্য, আশা ও বিশ্বাস নিয়ে করা দোয়া অবশ্যই কবুল হয়।

তিনজন সাহাবির ঘটনাও তওবার এক গভীর শিক্ষা বহন করে। তারা একটি যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার কারণে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পৃথিবী তাদের কাছে সংকীর্ণ মনে হতে থাকে। অবশেষে তারা আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে এলে আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন।

এসব ঘটনাই প্রমাণ করে—আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু। তিনি কাউকে সতর্কতা ও হেদায়েত না দিয়ে শাস্তি দেন না। বরং প্রতিটি ভুল ও বিপদকে তিনি বান্দার জন্য ফিরে আসার সুযোগ হিসেবে রেখে দেন।

তাই আমাদের জীবনের প্রতিটি ভুল, দুঃখ ও বিপর্যয়—সবই হতে পারে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পথ। নিরাশ না হয়ে, বিনয় ও আশা নিয়ে তাঁর দরবারে ফিরে আসাই একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা।

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
ফিরে আসো রবের আহ্বানে: তওবা, দোয়া ও আশার বার্তা
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

হয়রানি কমাতে ডিজিটাল কর ব্যবস্থা প্রয়োজন

ফিরে আসো রবের আহ্বানে: তওবা, দোয়া ও আশার বার্তা

প্রকাশিত: ০৭:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মানুষ ভুল করে, পথভ্রষ্ট হয়—আবার ফিরে আসে। এই চিরন্তন সত্যকেই পবিত্র কোরআন অত্যন্ত গভীর ও হৃদয়স্পর্শী ভাষায় তুলে ধরেছে। আল্লাহ তাআলা শুধু শাস্তিদাতা নন; তিনি পরম দয়ালু, যিনি নিজেই বান্দাদের তওবার পথ দেখান এবং তাঁর দিকে ফিরে আসতে আহ্বান জানান।

হযরত আদম (আ.)-এর ঘটনা আমাদের জন্য তওবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে বসবাসের অনুমতি দিলেও একটি গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তিনি সেই সীমা লঙ্ঘন করেন। এরপর আল্লাহর কাছ থেকে কিছু বাণী লাভ করে তিনি তওবা করেন এবং আল্লাহ তা কবুল করেন।
এই তওবার বাণী ছিল—
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের উপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।” (সুরা আরাফ: ২৩)

এই ঘটনা আমাদের শেখায়—পাপ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই হলো মুক্তির পথ। কারণ তিনি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।

একই শিক্ষা আমরা পাই হযরত ইউনুস (আ.)-এর ঘটনায়। বিপদের অন্ধকারে তিনি আল্লাহকে ডেকে বলেছিলেন—
“আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।”
আল্লাহ তাঁর এই দোয়া কবুল করেন এবং তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দেন। এটি প্রমাণ করে—সত্যিকার অনুতাপ ও একনিষ্ঠ দোয়া কখনো বিফল হয় না।

হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর ঘটনাও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। তিনি সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, আর আল্লাহ তাঁকে ইয়াহইয়া (আ.)-এর মতো নেক সন্তান দান করেন। এতে বোঝা যায়, ধৈর্য, আশা ও বিশ্বাস নিয়ে করা দোয়া অবশ্যই কবুল হয়।

তিনজন সাহাবির ঘটনাও তওবার এক গভীর শিক্ষা বহন করে। তারা একটি যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার কারণে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পৃথিবী তাদের কাছে সংকীর্ণ মনে হতে থাকে। অবশেষে তারা আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে এলে আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন।

এসব ঘটনাই প্রমাণ করে—আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু। তিনি কাউকে সতর্কতা ও হেদায়েত না দিয়ে শাস্তি দেন না। বরং প্রতিটি ভুল ও বিপদকে তিনি বান্দার জন্য ফিরে আসার সুযোগ হিসেবে রেখে দেন।

তাই আমাদের জীবনের প্রতিটি ভুল, দুঃখ ও বিপর্যয়—সবই হতে পারে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পথ। নিরাশ না হয়ে, বিনয় ও আশা নিয়ে তাঁর দরবারে ফিরে আসাই একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা।

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
ফিরে আসো রবের আহ্বানে: তওবা, দোয়া ও আশার বার্তা