বাংলাদেশ ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

ফিরে আসো রবের আহ্বানে: তওবা, দোয়া ও আশার বার্তা

মানুষ ভুল করে, পথভ্রষ্ট হয়—আবার ফিরে আসে। এই চিরন্তন সত্যকেই পবিত্র কোরআন অত্যন্ত গভীর ও হৃদয়স্পর্শী ভাষায় তুলে ধরেছে। আল্লাহ তাআলা শুধু শাস্তিদাতা নন; তিনি পরম দয়ালু, যিনি নিজেই বান্দাদের তওবার পথ দেখান এবং তাঁর দিকে ফিরে আসতে আহ্বান জানান।

হযরত আদম (আ.)-এর ঘটনা আমাদের জন্য তওবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে বসবাসের অনুমতি দিলেও একটি গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তিনি সেই সীমা লঙ্ঘন করেন। এরপর আল্লাহর কাছ থেকে কিছু বাণী লাভ করে তিনি তওবা করেন এবং আল্লাহ তা কবুল করেন।
এই তওবার বাণী ছিল—
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের উপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।” (সুরা আরাফ: ২৩)

এই ঘটনা আমাদের শেখায়—পাপ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই হলো মুক্তির পথ। কারণ তিনি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।

একই শিক্ষা আমরা পাই হযরত ইউনুস (আ.)-এর ঘটনায়। বিপদের অন্ধকারে তিনি আল্লাহকে ডেকে বলেছিলেন—
“আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।”
আল্লাহ তাঁর এই দোয়া কবুল করেন এবং তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দেন। এটি প্রমাণ করে—সত্যিকার অনুতাপ ও একনিষ্ঠ দোয়া কখনো বিফল হয় না।

হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর ঘটনাও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। তিনি সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, আর আল্লাহ তাঁকে ইয়াহইয়া (আ.)-এর মতো নেক সন্তান দান করেন। এতে বোঝা যায়, ধৈর্য, আশা ও বিশ্বাস নিয়ে করা দোয়া অবশ্যই কবুল হয়।

তিনজন সাহাবির ঘটনাও তওবার এক গভীর শিক্ষা বহন করে। তারা একটি যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার কারণে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পৃথিবী তাদের কাছে সংকীর্ণ মনে হতে থাকে। অবশেষে তারা আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে এলে আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন।

এসব ঘটনাই প্রমাণ করে—আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু। তিনি কাউকে সতর্কতা ও হেদায়েত না দিয়ে শাস্তি দেন না। বরং প্রতিটি ভুল ও বিপদকে তিনি বান্দার জন্য ফিরে আসার সুযোগ হিসেবে রেখে দেন।

তাই আমাদের জীবনের প্রতিটি ভুল, দুঃখ ও বিপর্যয়—সবই হতে পারে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পথ। নিরাশ না হয়ে, বিনয় ও আশা নিয়ে তাঁর দরবারে ফিরে আসাই একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন

ফিরে আসো রবের আহ্বানে: তওবা, দোয়া ও আশার বার্তা

প্রকাশিত: ০৭:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মানুষ ভুল করে, পথভ্রষ্ট হয়—আবার ফিরে আসে। এই চিরন্তন সত্যকেই পবিত্র কোরআন অত্যন্ত গভীর ও হৃদয়স্পর্শী ভাষায় তুলে ধরেছে। আল্লাহ তাআলা শুধু শাস্তিদাতা নন; তিনি পরম দয়ালু, যিনি নিজেই বান্দাদের তওবার পথ দেখান এবং তাঁর দিকে ফিরে আসতে আহ্বান জানান।

হযরত আদম (আ.)-এর ঘটনা আমাদের জন্য তওবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে বসবাসের অনুমতি দিলেও একটি গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তিনি সেই সীমা লঙ্ঘন করেন। এরপর আল্লাহর কাছ থেকে কিছু বাণী লাভ করে তিনি তওবা করেন এবং আল্লাহ তা কবুল করেন।
এই তওবার বাণী ছিল—
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের উপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।” (সুরা আরাফ: ২৩)

এই ঘটনা আমাদের শেখায়—পাপ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই হলো মুক্তির পথ। কারণ তিনি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।

একই শিক্ষা আমরা পাই হযরত ইউনুস (আ.)-এর ঘটনায়। বিপদের অন্ধকারে তিনি আল্লাহকে ডেকে বলেছিলেন—
“আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।”
আল্লাহ তাঁর এই দোয়া কবুল করেন এবং তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দেন। এটি প্রমাণ করে—সত্যিকার অনুতাপ ও একনিষ্ঠ দোয়া কখনো বিফল হয় না।

হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর ঘটনাও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। তিনি সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, আর আল্লাহ তাঁকে ইয়াহইয়া (আ.)-এর মতো নেক সন্তান দান করেন। এতে বোঝা যায়, ধৈর্য, আশা ও বিশ্বাস নিয়ে করা দোয়া অবশ্যই কবুল হয়।

তিনজন সাহাবির ঘটনাও তওবার এক গভীর শিক্ষা বহন করে। তারা একটি যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার কারণে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পৃথিবী তাদের কাছে সংকীর্ণ মনে হতে থাকে। অবশেষে তারা আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে এলে আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন।

এসব ঘটনাই প্রমাণ করে—আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু। তিনি কাউকে সতর্কতা ও হেদায়েত না দিয়ে শাস্তি দেন না। বরং প্রতিটি ভুল ও বিপদকে তিনি বান্দার জন্য ফিরে আসার সুযোগ হিসেবে রেখে দেন।

তাই আমাদের জীবনের প্রতিটি ভুল, দুঃখ ও বিপর্যয়—সবই হতে পারে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পথ। নিরাশ না হয়ে, বিনয় ও আশা নিয়ে তাঁর দরবারে ফিরে আসাই একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা।

kalprakash.com/SS