ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তার জন্য কোনো সম্পদ বন্ধক রাখার প্রচলন বহু পুরোনো। ইসলামও নিরাপদ লেনদেনের স্বার্থে বন্ধকের বৈধতা স্বীকার করেছে। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৮৩ নম্বর আয়াতে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বন্ধকি সম্পদ গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বন্ধক রাখা সম্পদ থেকে ঋণদাতার কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ বৈধ নয়। এমনকি সম্পদের মালিক অনুমতি দিলেও তা জায়েজ হবে না। কারণ ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণকে সুদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ঋণ থেকে কোনো উপকার লাভ করা হয়, তা সুদ।” এ কারণে বন্ধক রাখা জমি চাষ করা, ফসল ভোগ করা কিংবা অন্য কোনোভাবে তার সুবিধা নেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
ইসলামী আইনবিদদের মতে, ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা জমি বা অন্য কোনো সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া ‘রিবাল করদ্ব’ বা ঋণজনিত সুদের অন্তর্ভুক্ত। তাই ঋণদাতা বন্ধকি সম্পদ ভোগ করলে তা সুদের পর্যায়ে পড়ে।
আমাদের সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, জমি বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার পর ঋণদাতা জমি ব্যবহার করেন এবং বিনিময়ে জমির মালিককে সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে সেটিকে ভাড়া হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু যদি সেই অর্থ জমির প্রকৃত বাজারমূল্যের ভাড়ার সমান না হয়, তাহলে তা শরিয়তসম্মত ভাড়া হিসেবে গণ্য হবে না। বরং এটি সুদকে বৈধ দেখানোর একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হবে।
শরিয়তসম্মত বিকল্প কী?
কোনো ব্যক্তি যদি জমির বিনিময়ে এককালীন অর্থ নিতে চান, তাহলে শুরু থেকেই ভাড়ার চুক্তি করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এক বিঘা জমির বার্ষিক ভাড়া যদি ১০ হাজার টাকা হয়, তাহলে জমির মালিক ১০ বছরের জন্য জমি ভাড়া দিয়ে অগ্রিম এক লাখ টাকা গ্রহণ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে এটি ঋণ নয়, বরং বৈধ ভাড়ার চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে।
অন্যদিকে, যদি আগে বন্ধক চুক্তি করা হয়ে থাকে, তাহলে জমি ভোগ করতে চাইলে প্রথমে সেই বন্ধক চুক্তি বাতিল করে নতুন করে বাজারদর অনুযায়ী ভাড়ার চুক্তি করতে হবে। নামমাত্র ভাড়া নির্ধারণ করে জমি ব্যবহার করা বৈধ হবে না।
ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি হলো—ঋণের বিনিময়ে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না। তাই বন্ধকি জমি বা সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
কাল প্রকাশ ডেস্ক 
























