বাংলাদেশ ১০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo চাটমোহরে গ্রামীণ রাস্তা এইচবিবিকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন মহিলা আসনের এমপি রুমা Logo রং মুছে যাচ্ছে সেই আলোচিত আর্জেন্টিনার বাড়ির Logo নাটোরে বিষধর সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু Logo রামপালে র‍্যাবের হাতে জলদস্যু বাহিনীর সহযোগী সন্দেহে আটক, তিনটি অস্ত্র উদ্ধার Logo বেনাপোল দিয়ে প্রবেশ করলেন নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী Logo মানিকগঞ্জে খুদে বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত Logo নতুন তিন সিনেমায় চমক দেখাতে আসছেন আফরান নিশো Logo সীমান্ত অপরাধ দমনে সহযোগিতা বাড়াতে একমত বিজিবি-বিএসএফ Logo প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নেই: নাহিদ ইসলাম Logo সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে, আশা অর্থমন্ত্রীর

বন্ধকি জমি ভোগ করা কি বৈধ? ইসলামের দৃষ্টিতে যা জানা জরুরি

ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তার জন্য কোনো সম্পদ বন্ধক রাখার প্রচলন বহু পুরোনো। ইসলামও নিরাপদ লেনদেনের স্বার্থে বন্ধকের বৈধতা স্বীকার করেছে। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৮৩ নম্বর আয়াতে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বন্ধকি সম্পদ গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বন্ধক রাখা সম্পদ থেকে ঋণদাতার কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ বৈধ নয়। এমনকি সম্পদের মালিক অনুমতি দিলেও তা জায়েজ হবে না। কারণ ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণকে সুদ হিসেবে গণ্য করা হয়।

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ঋণ থেকে কোনো উপকার লাভ করা হয়, তা সুদ।” এ কারণে বন্ধক রাখা জমি চাষ করা, ফসল ভোগ করা কিংবা অন্য কোনোভাবে তার সুবিধা নেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

ইসলামী আইনবিদদের মতে, ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা জমি বা অন্য কোনো সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া ‘রিবাল করদ্ব’ বা ঋণজনিত সুদের অন্তর্ভুক্ত। তাই ঋণদাতা বন্ধকি সম্পদ ভোগ করলে তা সুদের পর্যায়ে পড়ে।

আমাদের সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, জমি বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার পর ঋণদাতা জমি ব্যবহার করেন এবং বিনিময়ে জমির মালিককে সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে সেটিকে ভাড়া হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু যদি সেই অর্থ জমির প্রকৃত বাজারমূল্যের ভাড়ার সমান না হয়, তাহলে তা শরিয়তসম্মত ভাড়া হিসেবে গণ্য হবে না। বরং এটি সুদকে বৈধ দেখানোর একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হবে।

শরিয়তসম্মত বিকল্প কী?

কোনো ব্যক্তি যদি জমির বিনিময়ে এককালীন অর্থ নিতে চান, তাহলে শুরু থেকেই ভাড়ার চুক্তি করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এক বিঘা জমির বার্ষিক ভাড়া যদি ১০ হাজার টাকা হয়, তাহলে জমির মালিক ১০ বছরের জন্য জমি ভাড়া দিয়ে অগ্রিম এক লাখ টাকা গ্রহণ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে এটি ঋণ নয়, বরং বৈধ ভাড়ার চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে।

অন্যদিকে, যদি আগে বন্ধক চুক্তি করা হয়ে থাকে, তাহলে জমি ভোগ করতে চাইলে প্রথমে সেই বন্ধক চুক্তি বাতিল করে নতুন করে বাজারদর অনুযায়ী ভাড়ার চুক্তি করতে হবে। নামমাত্র ভাড়া নির্ধারণ করে জমি ব্যবহার করা বৈধ হবে না।

ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি হলো—ঋণের বিনিময়ে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না। তাই বন্ধকি জমি বা সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
বন্ধকি জমি ভোগ করা কি বৈধ? ইসলামের দৃষ্টিতে যা জানা জরুরি
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

চাটমোহরে গ্রামীণ রাস্তা এইচবিবিকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন মহিলা আসনের এমপি রুমা

বন্ধকি জমি ভোগ করা কি বৈধ? ইসলামের দৃষ্টিতে যা জানা জরুরি

প্রকাশিত: ০৬:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তার জন্য কোনো সম্পদ বন্ধক রাখার প্রচলন বহু পুরোনো। ইসলামও নিরাপদ লেনদেনের স্বার্থে বন্ধকের বৈধতা স্বীকার করেছে। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৮৩ নম্বর আয়াতে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বন্ধকি সম্পদ গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বন্ধক রাখা সম্পদ থেকে ঋণদাতার কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ বৈধ নয়। এমনকি সম্পদের মালিক অনুমতি দিলেও তা জায়েজ হবে না। কারণ ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণকে সুদ হিসেবে গণ্য করা হয়।

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ঋণ থেকে কোনো উপকার লাভ করা হয়, তা সুদ।” এ কারণে বন্ধক রাখা জমি চাষ করা, ফসল ভোগ করা কিংবা অন্য কোনোভাবে তার সুবিধা নেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

ইসলামী আইনবিদদের মতে, ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা জমি বা অন্য কোনো সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া ‘রিবাল করদ্ব’ বা ঋণজনিত সুদের অন্তর্ভুক্ত। তাই ঋণদাতা বন্ধকি সম্পদ ভোগ করলে তা সুদের পর্যায়ে পড়ে।

আমাদের সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, জমি বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার পর ঋণদাতা জমি ব্যবহার করেন এবং বিনিময়ে জমির মালিককে সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে সেটিকে ভাড়া হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু যদি সেই অর্থ জমির প্রকৃত বাজারমূল্যের ভাড়ার সমান না হয়, তাহলে তা শরিয়তসম্মত ভাড়া হিসেবে গণ্য হবে না। বরং এটি সুদকে বৈধ দেখানোর একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হবে।

শরিয়তসম্মত বিকল্প কী?

কোনো ব্যক্তি যদি জমির বিনিময়ে এককালীন অর্থ নিতে চান, তাহলে শুরু থেকেই ভাড়ার চুক্তি করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এক বিঘা জমির বার্ষিক ভাড়া যদি ১০ হাজার টাকা হয়, তাহলে জমির মালিক ১০ বছরের জন্য জমি ভাড়া দিয়ে অগ্রিম এক লাখ টাকা গ্রহণ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে এটি ঋণ নয়, বরং বৈধ ভাড়ার চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে।

অন্যদিকে, যদি আগে বন্ধক চুক্তি করা হয়ে থাকে, তাহলে জমি ভোগ করতে চাইলে প্রথমে সেই বন্ধক চুক্তি বাতিল করে নতুন করে বাজারদর অনুযায়ী ভাড়ার চুক্তি করতে হবে। নামমাত্র ভাড়া নির্ধারণ করে জমি ব্যবহার করা বৈধ হবে না।

ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি হলো—ঋণের বিনিময়ে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না। তাই বন্ধকি জমি বা সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
বন্ধকি জমি ভোগ করা কি বৈধ? ইসলামের দৃষ্টিতে যা জানা জরুরি