ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে মাদক, অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালান, মানবপাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথ টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ৮ থেকে ১১ জুন অনুষ্ঠিত ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। সম্মেলন শেষে বৃহস্পতিবার বিএসএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
চার দিনের বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মানবপাচার, জাল মুদ্রা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সীমান্ত ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমন্বিত অভিযান পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা, অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ, নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার এবং সীমান্তবাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
উভয় বাহিনী সীমান্তবর্তী অপরাধ, বিদ্রোহী তৎপরতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
১১ জুন যৌথ কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে উভয় পক্ষ।
কাল প্রকাশ ডেস্ক 




















