ইসলামে শুধু ইবাদতই নয়, মানুষের চরিত্র ও অন্তরের অবস্থাকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে জান্নাতি ও জাহান্নামিদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন, যাতে মানুষ নিজের আচরণ পর্যালোচনা করে সংশোধনের সুযোগ পায়।
হারিসাহ ইবনে ওয়াহাব (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, তিনি জান্নাতিদের সম্পর্কে জানান যে তারা সাধারণত দুর্বল ও বিনয়ী মানুষ হয়ে থাকেন এবং আল্লাহর ওপর কসম করলে আল্লাহ তা পূর্ণ করেন। অন্যদিকে জাহান্নামের অধিবাসী হিসেবে তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—অবাধ্যতা, ঝগড়াটে স্বভাব এবং অহংকার। (বুখারি, হাদিস: ৬৬৫৭)
হাদিস ব্যাখ্যাকারদের মতে, প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো কঠোর ও রূঢ় স্বভাব, অর্থাৎ মানুষের সঙ্গে নম্র আচরণ না করা এবং হৃদয়ে দয়ার অভাব থাকা। ইসলামের শিক্ষা হলো কোমলতা ও দয়া, যা নবী (সা.)-এর চরিত্রেও স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অধৈর্যতা ও অস্থিরতা। কেউ কেউ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, এটি এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে আল্লাহর হক আদায় করে না বা বিপদে পড়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। সামান্য কষ্টেই হতাশ হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়। একটি হাদিসের ঘটনাও এ বিষয়ে শিক্ষা দেয়, যেখানে বাহ্যিকভাবে সাহসী মনে হলেও একজন ব্যক্তি পরে ধৈর্য হারিয়ে আত্মহত্যা করে, ফলে তার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। (বুখারি, হাদিস: ২৮৯৮)
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো অহংকার। অহংকার মানুষকে সত্য গ্রহণ থেকে দূরে সরিয়ে নেয় এবং অন্যদের তুচ্ছজ্ঞান করতে শেখায়। হাদিস অনুযায়ী, অহংকার হলো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে অবজ্ঞা করা। ইতিহাসে ইবলিসের অবাধ্যতাও এই অহংকারের কারণেই হয়েছিল।
এ তিনটি বৈশিষ্ট্য মানুষকে ধীরে ধীরে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। তাই মুসলমানদের জন্য বিনয়, ধৈর্য ও কোমলতা অর্জন করা এবং অহংকার ও কঠোরতা থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ইসলামী আলেমরা মত দিয়েছেন।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 























