আল্লাহ তাআলা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সমগ্র মানবজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন। তাঁকে এমন অনেক বিশেষ অনুগ্রহ দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো নবী বা রাসুলকে একসঙ্গে দেওয়া হয়নি। নিচে তাঁর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
প্রথমত, আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-এর হাতে বায়আত গ্রহণকে নিজের হাতে বায়আত গ্রহণের সমতুল্য ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, যারা আপনার হাতে বায়আত গ্রহণ করে, তারা মূলত আল্লাহর হাতেই বায়আত গ্রহণ করে। (সূরা আল-ফাতহ : ১০) এটি নবী (সা.)-এর মর্যাদার এক অনন্য প্রকাশ।
দ্বিতীয়ত, মহানবী (সা.)-কে শয়তানের প্রভাব থেকে বিশেষভাবে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। যদিও প্রতিটি মানুষের সঙ্গে একটি শয়তান নির্ধারিত থাকে, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ক্ষেত্রে আল্লাহ তাকে নিয়ন্ত্রণাধীন করে দেন এবং তিনি কেবল কল্যাণের দিকেই প্রভাব ফেলতে পারতেন। (সহিহ মুসলিম)
তৃতীয়ত, নবুওয়াতের ধারা তাঁর মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করে। তিনি ছিলেন শেষ নবী ও রাসুল। তাঁর আগমনের মাধ্যমে নবুয়তের ধারার সমাপ্তি ঘটে, যা ইসলামী আকিদার একটি মৌলিক বিষয়। (সহিহ মুসলিম)
চতুর্থত, তাঁর সুন্নাহকে অনুসরণযোগ্য হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোরআনের পাশাপাশি তাঁর কথা, কাজ ও অনুমোদন ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় প্রধান উৎস হিসেবে স্বীকৃত। (সুনানে আবু দাউদ)
পঞ্চমত, মিরাজের রাতে তিনি নবীদের ইমাম হিসেবে নামাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটি তাঁর নেতৃত্ব ও মর্যাদার একটি বিশেষ দিক। (সহিহ মুসলিম)
ষষ্ঠত, তাঁকে এমন পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে—সমগ্র পৃথিবীকে নামাজের উপযোগী করা, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হালাল করা, বিশ্বজনীন নবুওয়াত, ব্যাপক সুপারিশের অধিকার এবং শত্রুর বিরুদ্ধে দূর থেকে প্রভাব বিস্তারের সাহায্য। (সহিহ বুখারি)
সপ্তমত, কিয়ামতের দিন তিনিই সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন। তাঁর পূর্বে কোনো নবী-রাসুলও জান্নাতে প্রবেশ করবেন না বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। (সহিহ মুসলিম)
মহান আল্লাহ আমাদেরকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং তাঁর আদর্শে জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 























