মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | ভোর ৪:৪৯:৫৯

পরিবারের ভরণ-পোষণে ব্যয় করলে কী সওয়াব পাওয়া যায়?

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৭
শেয়ার: mail
পরিবারের ভরণ-পোষণে ব্যয় করলে কী সওয়াব পাওয়া যায়?

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের ভরণ-পোষণ ও দেখভাল করা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকেই পরিবারের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। তবে ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো, ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবারের ভরণ-পোষণ কেবল একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। একজন মুসলিম যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের জন্য ব্যয় করেন, তবে সেই ব্যয়ও সদকার সওয়াব লাভের মাধ্যম হয়ে যায়।

জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ তার কষ্টার্জিত অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করে। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বোত্তম ব্যয়ের অন্যতম হলো পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয়। হাদিস শরিফে এসেছে, সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ যে দিনার ব্যয় করে, তার মধ্যে সর্বোত্তম দিনার হলো, যা সে তার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করে, যা সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ঘোড়া প্রতিপালনে ব্যয় করে এবং যা সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী সহযোদ্ধাদের জন্য ব্যয় করে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৭৬০)

তবে এ মর্যাদা লাভের জন্য কিছু বিষয় অনুসরণ করা জরুরি।

আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে ব্যয় করা

পরিবারের জন্য ব্যয় করার সময় নিয়ত হতে হবে আল্লাহর নির্দেশ পালন ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। কারণ মহান আল্লাহ পরিবারের জন্য ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তারা কী ব্যয় করবে? বল, তোমরা যে সম্পদ ব্যয় করবে, তা মা-বাবা, আত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য। আর তোমরা যে কোনো ভালো কাজ কর, নিশ্চয়ই সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৫)

সাআদ ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের সম্পদশালী রেখে যাবে। আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তুমি যা কিছু ব্যয় করবে, তার প্রতিদান আল্লাহ তোমাকে দেবেন। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দেবে, তারও প্রতিদান পাবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৩৬)

অপচয় না করা

ইসলামে কৃপণতা যেমন অপছন্দনীয়, তেমনি অপচয়ও নিষিদ্ধ। পরিবারের জন্য ব্যয় হতে হবে সামর্থ্য অনুযায়ী, পরিমিত ও প্রয়োজনভিত্তিক। এটিই আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর যখন তারা ব্যয় করে, তখন অপব্যয়ও করে না এবং কৃপণতাও করে না; বরং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করে। (সুরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৭)

হালাল উপার্জন থেকে ব্যয় করা

পরিবারের জন্য ব্যয়কে ইবাদতে পরিণত করতে হলে তা অবশ্যই হালাল উপার্জন থেকে হতে হবে। পরিবারের মুখে হালাল রিজিক তুলে দেওয়া একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র। তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। এরপর তিনি কোরআনের দুটি আয়াত উল্লেখ করেন। প্রথমটি, হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র ও হালাল বস্তু আহার কর এবং সৎকর্ম কর। আমি তোমাদের কর্ম সম্পর্কে সর্বজ্ঞ। (সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৫১)

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদাররা, আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার কর। (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৭২)

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি দীর্ঘ সফর করে ক্লান্ত-শ্রান্ত অবস্থায় দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। অথচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক ও জীবিকা সবই হারাম। রাসুল (সা.) বলেন, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হবে? (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৩৬)

কোনো সচেতন মানুষই চাইবেন না, তার পরিবারের মুখে এমন খাদ্য উঠুক, যার কারণে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হতে হয় এবং দোয়া কবুল না হয়।

অতএব, উল্লেখিত শর্তগুলো মেনে পরিবারের জন্য ব্যয় করলে তা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম উত্তম মাধ্যম হয়ে ওঠে। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত হালাল উপার্জন থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে, অপচয় পরিহার করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে পরিবারের জন্য ব্যয় করা।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward