প্রায় দুই দশক পর ফিরছে আওয়ারাপন। ইমরান হাশমিকে নিয়ে আওয়ারাপন ২– এর ঘোষণা প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। তবে দর্শকদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— প্রথম আওয়ারাপন যে আবেগ, সংগীত ও স্মৃতির উত্তরাধিকার তৈরি করেছিল, তার সমান প্রভাব কি রাখতে পারবে নতুন সিনেমাটি?
২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আওয়ারাপন মুক্তির সময় বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও সময়ের সঙ্গে এটি একটি কাল্ট ক্লাসিকে পরিণত হয়। টেলিভিশন, ইউটিউব ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও ছবিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ছবির গল্প, ইমরান হাশমির অভিনয় এবং আবেগঘন নির্মাণের পাশাপাশি এর গানগুলোই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।
গানই ছিল ‘আওয়ারাপন’-এর প্রাণ
তো ফির আও, তেরা মেরা রিশতা, মাওলা মাওলা, ও জুদা হোকে ভি— এমন একাধিক গান মুক্তির প্রায় দুই দশক পরও সমান জনপ্রিয়। বিশেষ করে ‘তো ফির আও’ গানটি পাকিস্তানি শিল্পী মুস্তফা জাহিদ– এর কণ্ঠে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। তাঁর আবেগময় গাওয়া গানটিকে শুধু একটি চলচ্চিত্রের গান নয়, বরং একটি প্রজন্মের অনুভূতির অংশে পরিণত করেছে।
একসময় ইমরান হাশমির সিনেমার অন্যতম বড় আকর্ষণই ছিল এর মিউজিক অ্যালবাম। দর্শকদের অনেকেই নতুন সিনেমার পাশাপাশি নতুন গান শোনার অপেক্ষায় থাকতেন। সেই ঐতিহ্যের কারণেই আওয়ারাপন ২– এর সংগীত নিয়েও প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া।
‘আওয়ারাপন ২’-এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ারাপন ২– এর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে এর সংগীত। কারণ প্রথম ছবির গল্পের পাশাপাশি গানগুলোও দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছিল। বর্তমান সময়ে অনেক গান দ্রুত ভাইরাল হলেও, বছরের পর বছর মানুষের প্লেলিস্টে টিকে থাকার মতো গান তুলনামূলকভাবে কম তৈরি হচ্ছে।
একই সঙ্গে নতুন ছবির গল্পও গুরুত্বপূর্ণ। যদি শক্তিশালী কাহিনী, আবেগঘন নির্মাণ এবং স্মরণীয় সংগীত একসঙ্গে উপস্থাপন করা যায়, তাহলে সিনেমাটি শুধু নস্টালজিয়ার ওপর নির্ভর করবে না; বরং নিজস্ব পরিচয়ও তৈরি করতে পারবে।
দর্শকদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে মুস্তফা জাহিদের কণ্ঠ
আওয়ারাপন ২– এর প্রথম গান ‘ভে জুনুন’ প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। গানটির মন্তব্যের ঘরে অনেক শ্রোতা প্রথম আওয়ারাপন– এর স্মৃতি তুলে ধরে লিখছেন, ‘মুস্তফা জাহিদই সেরা’, ‘মুস্তফা জাহিদের বিকল্প নেই’, ‘আমরা মুস্তফা জাহিদের কণ্ঠকে মিস করছি’— এমন অসংখ্য মন্তব্য নজরে পড়ছে।
এসব মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, দর্শকদের একটি বড় অংশের কাছে আওয়ারাপন শুধু একটি সিনেমা নয়; এটি একটি আবেগ, যার বড় অংশজুড়ে রয়েছে মুস্তফা জাহিদের কণ্ঠ। বিশেষ করে ‘তো ফির আও’ গানটি আজও ভক্তদের কাছে প্রথম ছবির পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক।
অবশ্য ইউটিউবের মন্তব্য কোনো বৈজ্ঞানিক জনমত জরিপ নয়; এগুলো নির্দিষ্ট কিছু দর্শকের ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন। তবুও মন্তব্যগুলোর একটি সাধারণ বার্তা স্পষ্ট, আওয়ারাপন ২- কে শুধু গল্প বা অভিনয় নয়, সংগীতের দিক থেকেও প্রথম ছবির উচ্চমানের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সেই কারণেই নতুন ছবির সংগীত এবং কণ্ঠশিল্পীদের পারফরম্যান্স নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
নস্টালজিয়া যেমন শক্তি, তেমনি চাপও
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিউডে পুরোনো জনপ্রিয় সিনেমার সিক্যুয়েল নির্মাণের প্রবণতা বেড়েছে। নস্টালজিয়া দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করলেও প্রত্যাশার মাত্রাও অনেক বাড়িয়ে দেয়। আওয়ারাপন ২– এর ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটছে। দর্শক শুধু একটি নতুন সিনেমা দেখতে চান না; তারা ফিরে পেতে চান প্রথম ছবির সেই আবেগ, সেই অনুভূতি এবং সেই সংগীত, যা আওয়ারাপন– কে কাল্ট ক্লাসিকে পরিণত করেছে।
ইমরান হাশমির প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে আওয়ারাপন ২– এর বড় আকর্ষণ। তবে শুধু পরিচিত মুখ বা পুরোনো স্মৃতির ওপর ভর করে প্রথম ছবির সমপর্যায়ের সাড়া ফেলা সহজ হবে না। শক্তিশালী গল্প, আবেগঘন নির্মাণ এবং এমন একটি সংগীত অ্যালবাম, যা ‘তো ফির আও’–এর মতো দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে আওয়ারাপন ২ সত্যিই প্রথম ছবির জাদু ফিরিয়ে আনতে পারে কি না।
পরিচালক নিতিন কাক্কারের নির্মাণে আওয়ারাপন ২–এ প্রধান চরিত্রে ফিরছেন ইমরান হাশমি। তাঁর সঙ্গে দেখা যাবে দিশা পাটানি ও শাবানা আজমিকে। ছবিটি প্রযোজনা করছে বিশেষ ফিল্মস। সর্বশেষ ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, সিনেমাটি আগামী ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।
এখন অপেক্ষা, নতুন অধ্যায় কি শুধু নস্টালজিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আবারও দর্শকদের উপহার দেবে এমন এক সিনেমা ও সংগীত, যা আগামী অনেক বছর ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আজিজুল ইসলাম যুবরাজ 
























