বাংলাদেশ ০৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার দুই ঘটনায় দুই সিদ্ধান্ত, প্রশ্নের মুখে জাবি প্রশাসন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীদের গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে ঘটে যাওয়া দুই পৃথক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একটি ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও, সাম্প্রতিক আরেক ঘটনায় অভিযুক্ত এক বহিরাগতকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাগামী বাসে এক নারী শিক্ষার্থীর অনুমতি ছাড়া গোপনে ছবি তোলা এবং প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়।

অন্যদিকে, শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে দেবাশীষ চৌধুরী নামে এক বহিরাগতকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা অফিসে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে তিনি গোপনে ছবি তোলার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। পরে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেবাশীষ চৌধুরী ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ঘটনার সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজার সঙ্গে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়, যা পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না—এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকার দেওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত গাড়িও ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না বলে শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের ধরন প্রায় একই হলেও দুই ঘটনায় প্রশাসনের ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, একই ধরনের অভিযোগে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার দুই ঘটনায় দুই সিদ্ধান্ত, প্রশ্নের মুখে জাবি প্রশাসন
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার দুই ঘটনায় দুই সিদ্ধান্ত, প্রশ্নের মুখে জাবি প্রশাসন

প্রকাশিত: ০৩:২২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীদের গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে ঘটে যাওয়া দুই পৃথক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একটি ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও, সাম্প্রতিক আরেক ঘটনায় অভিযুক্ত এক বহিরাগতকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাগামী বাসে এক নারী শিক্ষার্থীর অনুমতি ছাড়া গোপনে ছবি তোলা এবং প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়।

অন্যদিকে, শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার অভিযোগে দেবাশীষ চৌধুরী নামে এক বহিরাগতকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা অফিসে দেওয়া লিখিত স্বীকারোক্তিতে তিনি গোপনে ছবি তোলার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর প্রবেশ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। পরে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেবাশীষ চৌধুরী ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ঘটনার সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা সেলিম রেজার সঙ্গে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়, যা পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না—এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকার দেওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত গাড়িও ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না বলে শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের ধরন প্রায় একই হলেও দুই ঘটনায় প্রশাসনের ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, একই ধরনের অভিযোগে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার দুই ঘটনায় দুই সিদ্ধান্ত, প্রশ্নের মুখে জাবি প্রশাসন