ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি)। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় উপভোগ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ভিড় করেন এক হাজারেরও বেশি ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচ চলাকালে মুক্তমঞ্চে স্থাপিত বড় পর্দার সামনে সমর্থকদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। খেলা শুরুর আগ থেকেই বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। আর্জেন্টিনার জার্সি ও পতাকায় সজ্জিত অনেক সমর্থককে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে দেখা যায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। মেসির প্রতিটি গোলের পর উল্লাস, করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মুক্তমঞ্চ এলাকা।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের অনেককে আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা যায়। কেউ ছবি তোলেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে জয় উদযাপন করেন। খেলা ঘিরে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুক্তমঞ্চে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাদ উল ইসলাম বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার খেলা উপভোগ করেছি। দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং লিওনেল মেসির তিন গোল দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। খেলার এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, আনন্দ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর্জেন্টিনার এই জয় সকল সমর্থকের জন্য আনন্দের উপলক্ষ হয়ে থাকবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাতুল বলেন, “আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়কে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সে দলটি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো খেলেছে।”
ইংরেজি বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী বলেন, “বাংলাদেশের কোটি মানুষের আবেগের নাম ফুটবল। ম্যারাডোনা থেকে মেসি—তাদের শৈল্পিক ফুটবল এ দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীকে আকৃষ্ট করেছে। ২০২২ বিশ্বকাপ ছিল আমাদের প্রজন্মের বড় প্রাপ্তি। ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়েও আমরা আশাবাদী। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে একসঙ্গে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা আমাদের আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আশা করি, ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে এই মুক্তমঞ্চ থেকেই আমরা আর্জেন্টিনার বিজয় মিছিল বের করব।”
kalprakash.com/SAS
জাবি প্রতিনিধি 





















