বাংলাদেশ ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধে বিজয়ী ইরান: পরাজিতদের দীর্ঘ তালিকা

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রচলিত সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বলে দাবি করা হয়েছে এক বিশ্লেষণে। চল্লিশ দিনের এই সংঘাতকে ঘিরে প্রতিরোধ ও ফলাফলের আলোচনায় বলা হচ্ছে, ইরান এই যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে।

মিডল ইস্ট আই-এর প্রধান সম্পাদক ডেভিড হার্স্ট এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, সামরিক শক্তিতে অতুলনীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, ইরানের টিকে থাকা অঞ্চলটির শক্তির ভারসাম্যকে বদলে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই যুদ্ধের ফলাফল শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে—যেখানে প্রচলিত শক্তিগুলোর আধিপত্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।


প্রথম পরাজিত যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্লেষণে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়ায় নিজেকে নির্ধারক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক চাপ প্রয়োগ করেও ওয়াশিংটন তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল সংঘাতে জড়িয়ে পড়া আবারও দেখিয়েছে যে সামরিক সক্ষমতা সবসময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ সক্ষমতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।


দ্বিতীয় পরাজিত ইসরাইল

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি নেতৃত্ব ধারণা করেছিল ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়িয়ে তারা কৌশলগত সুবিধা নিতে পারবে, কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

বরং যুদ্ধের ফলে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে জনগণ যুদ্ধকালীন অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিজ্ঞতা পেয়েছে।

এছাড়া প্রচলিত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব যে সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না, এই সংঘাত তা আরও স্পষ্ট করেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।


নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সংকট

বিশ্লেষণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও এই পরিস্থিতির অন্যতম রাজনৈতিক পরাজিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি বরং সমালোচনা ও বিভাজন আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

ফলে তার নেতৃত্ব এখন আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যেখানে যুদ্ধ তার অবস্থানকে শক্তিশালী করার বদলে আরও দুর্বল করেছে।


সামগ্রিক প্রভাব

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংঘাত আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক অভিযানের প্রত্যাশিত ফল না আসায় কৌশলগত পরিকল্পনাগুলো পুনর্মূল্যায়নের চাপ তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে।

সূত্র: মেহের নিউজ

kalprakash.com/SS

রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
যুদ্ধে বিজয়ী ইরান: পরাজিতদের দীর্ঘ তালিকা
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধে বিজয়ী ইরান: পরাজিতদের দীর্ঘ তালিকা

প্রকাশিত: ০১:২৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রচলিত সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বলে দাবি করা হয়েছে এক বিশ্লেষণে। চল্লিশ দিনের এই সংঘাতকে ঘিরে প্রতিরোধ ও ফলাফলের আলোচনায় বলা হচ্ছে, ইরান এই যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে।

মিডল ইস্ট আই-এর প্রধান সম্পাদক ডেভিড হার্স্ট এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, সামরিক শক্তিতে অতুলনীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, ইরানের টিকে থাকা অঞ্চলটির শক্তির ভারসাম্যকে বদলে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই যুদ্ধের ফলাফল শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে—যেখানে প্রচলিত শক্তিগুলোর আধিপত্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।


প্রথম পরাজিত যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্লেষণে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়ায় নিজেকে নির্ধারক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক চাপ প্রয়োগ করেও ওয়াশিংটন তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল সংঘাতে জড়িয়ে পড়া আবারও দেখিয়েছে যে সামরিক সক্ষমতা সবসময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ সক্ষমতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।


দ্বিতীয় পরাজিত ইসরাইল

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি নেতৃত্ব ধারণা করেছিল ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়িয়ে তারা কৌশলগত সুবিধা নিতে পারবে, কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

বরং যুদ্ধের ফলে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে জনগণ যুদ্ধকালীন অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিজ্ঞতা পেয়েছে।

এছাড়া প্রচলিত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব যে সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না, এই সংঘাত তা আরও স্পষ্ট করেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।


নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সংকট

বিশ্লেষণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও এই পরিস্থিতির অন্যতম রাজনৈতিক পরাজিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি বরং সমালোচনা ও বিভাজন আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

ফলে তার নেতৃত্ব এখন আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যেখানে যুদ্ধ তার অবস্থানকে শক্তিশালী করার বদলে আরও দুর্বল করেছে।


সামগ্রিক প্রভাব

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংঘাত আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। সামরিক অভিযানের প্রত্যাশিত ফল না আসায় কৌশলগত পরিকল্পনাগুলো পুনর্মূল্যায়নের চাপ তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে।

সূত্র: মেহের নিউজ

kalprakash.com/SS

রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
যুদ্ধে বিজয়ী ইরান: পরাজিতদের দীর্ঘ তালিকা