আজ ৭ মার্চ। বাঙালির জীবনে এক অনন্য দিন। এ দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ভিন্ন মাত্রা পেয়েছিল। রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তাতে মুক্তিপাগল বাঙালির রক্ত টগবগ করে উঠেছিল।
মুহুর্মুহু স্লোগানে কেঁপে ওঠে বাংলার আকাশ। নড়ে ওঠে মানুষের হাতে থাকা গর্বিত লাল-সবুজ পতাকা—যার বুকে সোনালি রঙে আঁকা বাংলাদেশের মানচিত্র।
৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু তর্জনী উঁচিয়ে বলেছিলেন,
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে দিশেহারা হয়ে পড়ে। মুক্তিপাগল বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত হয়।
৭ মার্চের ঢাকা ছিল লাখো মানুষের শহর। বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ছুটে এসেছিল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্য। নানা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ঢাকা শহর।
শেখ মুজিবের ভাষণের পর তাঁর ওপর বিচ্ছিন্নতাবাদীর দায় চাপিয়ে নির্বিচারে বাঙালি নিধনের ঘৃণ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রস্তুত ছিল। আকাশে উড়ছিল সামরিক জঙ্গি বিমান।
সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলেও বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন। আর এই ভাষণেই নিরস্ত্র বাঙালি জাতি সশস্ত্র জাতিতে পরিণত হয় এবং পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
লেখক : গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক নেতা
সোহাগ আরেফিন 
























