বাংলাদেশ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo রিয়া খাতুন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের জেরে ধর্ষকের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩ Logo ফুটপাত ও সড়ক অ‌বৈধ দখল, জনদু‌র্ভোগ চর‌মে Logo অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে নিয়ে অপপ্রচার: ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী Logo নিজ জেলায় মহানগর পুলিশে আর দায়িত্ব নয়, শতাধিক সদস্যের বদলির সিদ্ধান্ত Logo নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা Logo চাটমোহরে মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে সাইলেন্সারে অতিষ্ঠ জনজীবন Logo মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী মানবিক সহায়তা কর্মসূচি Logo রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ছাত্রলীগ–যুবলীগসহ গ্রেপ্তার ৫ Logo জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo সিএমপির সাইবার সাপোর্ট অ্যান্ড রেসপন্স সেন্টারের উদ্বোধন

ইরান ইস্যুতে কৌশলগত সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ পথ

মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়াজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান প্রশ্নে গভীর কৌশলগত সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এমন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যাকে অনেকেই “কৌশলগত অচলাবস্থা” হিসেবে বর্ণনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সামনে বর্তমানে ইরানকে ঘিরে তিনটি প্রধান পথ খোলা থাকলেও প্রতিটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি।

কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “বিপর্যয়” ডেকে আনতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান এখনো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার বড় অংশ ধরে রেখেছে এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ ক্ষমতাও বজায় আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলপন্থী লবির চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক উত্তেজনার পথ বেছে নিতে পারে। তবে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনের বড় অংশ, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটরা, নতুন করে আরেকটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করছে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার পথও সহজ নয়। ২০১৫ সালের  পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ)  চুক্তির অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতা মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে। রিপাবলিকানদের একটি অংশ ও ইসরায়েলঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো এমন উদ্যোগকে দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

এছাড়া তৃতীয় একটি পথ হিসেবে ইরান ইস্যুকে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখার কৌশলও বিবেচনায় রয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এতে তেহরান আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সক্ষমতা গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে আন্তর্জাতিক বিভাজন। ইউরোপীয় দেশগুলো সাধারণত ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষপাতী। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোও বৃহত্তর সংঘাত এড়িয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া প্রকাশ্যেই ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান থেকে ভিন্ন মত পোষণ করছে। তাদের মতে, এই ইস্যুকে ওয়াশিংটনের প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সংঘাত, সমঝোতা কিংবা অনিশ্চয়তা—প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত খরচ। ফলে একতরফা নীতির বদলে নতুন বাস্তবতায় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ মেহের নিউজ

kalprakash.com/SS

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
ইরান ইস্যুতে কৌশলগত সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ পথ
জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়া খাতুন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের জেরে ধর্ষকের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

ইরান ইস্যুতে কৌশলগত সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ পথ

প্রকাশিত: ১২:৩১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়াজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান প্রশ্নে গভীর কৌশলগত সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এমন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যাকে অনেকেই “কৌশলগত অচলাবস্থা” হিসেবে বর্ণনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সামনে বর্তমানে ইরানকে ঘিরে তিনটি প্রধান পথ খোলা থাকলেও প্রতিটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি।

কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “বিপর্যয়” ডেকে আনতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান এখনো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার বড় অংশ ধরে রেখেছে এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ ক্ষমতাও বজায় আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলপন্থী লবির চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক উত্তেজনার পথ বেছে নিতে পারে। তবে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনের বড় অংশ, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটরা, নতুন করে আরেকটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করছে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার পথও সহজ নয়। ২০১৫ সালের  পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ)  চুক্তির অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতা মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে। রিপাবলিকানদের একটি অংশ ও ইসরায়েলঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো এমন উদ্যোগকে দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

এছাড়া তৃতীয় একটি পথ হিসেবে ইরান ইস্যুকে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখার কৌশলও বিবেচনায় রয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এতে তেহরান আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সক্ষমতা গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে আন্তর্জাতিক বিভাজন। ইউরোপীয় দেশগুলো সাধারণত ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষপাতী। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোও বৃহত্তর সংঘাত এড়িয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া প্রকাশ্যেই ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান থেকে ভিন্ন মত পোষণ করছে। তাদের মতে, এই ইস্যুকে ওয়াশিংটনের প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সংঘাত, সমঝোতা কিংবা অনিশ্চয়তা—প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত খরচ। ফলে একতরফা নীতির বদলে নতুন বাস্তবতায় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ মেহের নিউজ

kalprakash.com/SS

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
ইরান ইস্যুতে কৌশলগত সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ পথ