নতুন প্রজন্মের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাত’-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই পরমাণু সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রধান সের্গেই কারাকায়েভ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সফল উৎক্ষেপণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করছেন।
পুতিন জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সারমাত ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সক্রিয় অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত করা হবে।
তিনি দাবি করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা পশ্চিমা বিশ্বের যেকোনো সমমানের অস্ত্রের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। তার ভাষায়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র।
রাশিয়ার মতে, ‘সারমাত’ সাব-অরবিটাল বা আংশিক মহাকাশপথে উড়তে সক্ষম এবং এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। এটি প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম বলেও দাবি করা হয়েছে।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উন্নয়নাধীন থাকা এই প্রকল্পটি ২০১১ সালে শুরু হয়। যদিও এর আগে পরীক্ষার ক্ষেত্রে কিছু ব্যর্থতার খবরও সামনে আসে।
সোভিয়েত যুগের ‘ভয়েভোদা’ ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এই অস্ত্রটি, যা পশ্চিমা বিশ্বে ‘স্যাটান-টু’ নামেও পরিচিত।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হলো। ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যত অনুপস্থিত।
চুক্তি শেষ হলেও উভয় দেশ উচ্চপর্যায়ের সামরিক সংলাপ পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে, তবে নতুন কোনো সমঝোতা এখনো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























