দেশে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় পৃথক ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরই এই উদ্যোগের ঘোষণা আসে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন গুজব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্য নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হবে। তার মতে, ডিজিটাল যুগে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় আলাদা কাঠামো ছাড়া এসব মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং জালিয়াতি, অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইল, মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানোসহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণী ও কিশোরীরা সাইবার বুলিংয়ের বড় শিকার হচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি পাঁচজন কিশোরী ও তরুণীর মধ্যে তিনজন কোনো না কোনোভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। তবে সামাজিক লজ্জার কারণে অধিকাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন না। যারা অভিযোগ করেন, তাদের অনেক মামলাই পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে নিষ্পত্তি বা খারিজ হয়ে যায়।
গত পাঁচ বছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনে হাজার হাজার মামলা দায়ের হলেও বিশেষায়িত ইউনিট না থাকায় তদন্ত ও নিষ্পত্তিতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার অপরাধ অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর ও জটিল হওয়ায় প্রশিক্ষিত জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন আলাদা ইউনিট গঠন এখন সময়ের দাবি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এসব মামলার দায়িত্ব পালন করছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অনলাইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























