যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তাকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে সোমবার সকালে ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় চত্বরে গণঅনশন শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো। সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে বিষয়টি চেপে রাখতে বাধ্য হতো। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ জানালেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার সকালে ইকরামুল ইসলাম বিদ্যালয়ে এলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এরপর সব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে গণঅনশন কর্মসূচি শুরু করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দৃঢ় আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অনশন প্রত্যাহার করে। এরপর পুলিশ অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ইকরামুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমানের ছোট ছেলে এনজেল পারভেজ রিফাত বাদী হয়ে ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের অনশনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ে গিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শোনা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ জানান, আটক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
kalprakash.com/IM