তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) স্থাপন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘ইনোভেশন হাব’। সরকারের ডিজিটাল এন্ট্রাপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্ট (ডিইআইইডি) প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এ ইনোভেশন হাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ, উদ্ভাবনী গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা, আইটি স্টার্টআপ তৈরি এবং ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অনুসন্ধানের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম পাবেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ ভবনের পঞ্চম তলায় প্রায় ৪ হাজার ২৪০ বর্গফুট জায়গা জুড়ে ইনোভেশন হাবটি গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে হাবের প্রাথমিক কাজ ও ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকল্পটি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে এবং টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ অবকাঠামো স্থাপন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এ হাবে যেসব আধুনিক সুবিধা থাকবে তার মধ্যে রয়েছে—কো-ওয়ার্কিং স্পেস, ফেব্রিকেটেড (ফ্যাব) ল্যাব, মিটিং কক্ষ, মিনি অডিটোরিয়াম, গেমিং জোন, কফি কর্নার, ম্যাসাজ চেয়ার ও ইনচার্জের কক্ষ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞ মেন্টরদের পরামর্শের ব্যবস্থা থাকবে।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবসায়িক ধারণা তৈরি, দল গঠন, মেন্টরদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং শিল্পখাতের শীর্ষ পেশাজীবীদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন, পণ্য উন্নয়ন, বিপণন ও অর্থায়ন বিষয়ে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পথ সুগম হবে।
এর আগে, গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত তারুণ্যের উৎসব অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে ডিইআইইডি প্রকল্পের ইনোভেশন ও কমার্শিয়েলাইজেশন বিশেষজ্ঞ সৈয়দ ফজলে ফারহান জানান, কুমিল্লায় আপাতত প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। পরবর্তীতে এর দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে পারে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ইনোভেশন হাব স্থাপনের কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক ড. মো. মেহেদী হাসান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যেই নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেছে এবং দ্রুতই এটি বাস্তবায়িত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইনোভেশন হাবটি স্থাপিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ পাবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি চালুর বিষয়ে প্রশাসন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
kalprakash.com/IM