মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে একটি আস্ত মসজিদ। গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে স্থানীয় ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেছিলেন মুসল্লিরা। তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফজরের নামাজের সময় এসে তারা দেখেন, মসজিদটির কোনো চিহ্নই আর অবশিষ্ট নেই; পুরো কাঠামোটি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রোববার বিকেলে সরেজমিনে সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মাপাড়জুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। নদীভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বালুর বস্তা ফেলে গড়ে তোলা অস্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থার একটি বড় অংশই প্রবল স্রোতের তোড়ে ধসে গেছে। তীব্র স্রোতের মুখে প্রতিরোধব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ায় রাকিরকান্দি এলাকার মাদানী কমপ্লেক্স মাদ্রাসার অন্তর্ভুক্ত ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি শেষ পর্যন্ত পদ্মায় তলিয়ে যায়। বর্তমানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছেন।
মাদানী কমপ্লেক্স মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল জানান, বিগত পাঁচ বছরে তাদের মাদ্রাসার প্রায় ১০০ শতাংশ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদুর অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি ও বালু তোলায় নদী অতিরিক্ত গভীর হয়ে এই ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু সদর উপজেলা নয়, পাশের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী এলাকায়ও তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে ছোট নৌযান চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এই এলাকা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে রোববার বিকেলে ভাঙনকবলিত দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় তারা বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধে জরুরি কাজের উদ্বোধন করেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী জানান, ভাঙনরোধে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের নিয়ে ঝুঁকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামূলক কাজ চালানো হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদীভাঙন রোধে প্রশাসন আন্তরিকভাবে তৎপর রয়েছে এবং সাধ্যমতো সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক জানান, পদ্মা নদীতে হঠাৎ পানির তীব্র স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে পাউবোর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
kalprakash.com/IM