সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বরের কারণে সৃষ্ট জটিলতা এড়াতে এবং বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি নিরসনে স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) চালু করছে সরকার। নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে, ফলে ভুল হিসাবে অর্থ চলে যাওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি বন্ধ হবে।
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে এ ব্যবস্থা দেশজুড়ে কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এনএসসি সিস্টেম) এই এভিএস সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ‘স্ট্রেন্থেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস)’ কর্মসূচির আওতায় এ আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা চালু করা হচ্ছে।
বর্তমানে সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির যাবতীয় লেনদেন এনএসসি সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহকের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে গ্রাহকের হিসাবে মুনাফা ও মূল অর্থ পাঠানো হয়। একই সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হয়ে থাকে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের সুবিধা আগে থেকেই চালু থাকলেও এবার যুক্ত হলো রিয়েল-টাইম ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের সুবিধা।
আগের ব্যবস্থায় জটিলতা
আগে গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বর সরাসরি সিস্টেমে এন্ট্রি করা হতো। ফলে কোনো সংখ্যা ভুল হলে সংশ্লিষ্ট ইএফটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফেরত আসত। পরবর্তীতে তথ্য সংশোধন করে পুনরায় অর্থ পাঠাতে বিনিয়োগকারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও কাজের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতো। এছাড়া ভুল হিসাবের কারণে অর্থ অন্যের অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকত।
যেভাবে কাজ করবে এভিএস
নতুন ব্যবস্থায় হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। প্রথমে হিসাবটি সঠিক ও সচল কি না তা পরীক্ষা করা হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের অর্থ ছাড়ের আগেই যেকোনো ভুল বা অসামঞ্জস্য দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। নতুন সঞ্চয়পত্র কেনার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রেও এভিএস কার্যকর থাকবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ বিভাগের মতে, এভিএস চালুর ফলে ভুল হিসাব নম্বরের কারণে ইএফটি ফেরত আসার ঝুঁকি দূর হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কমবে এবং গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নিরাপদে, স্বচ্ছভাবে ও নির্ধারিত সময়ে প্রকৃত হিসাবধারীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে।
kalprakash.com/IM