ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থেকে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়কটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
রুহিয়া থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের দূরত্ব প্রায় ২১ কিলোমিটার। এ সড়ক দিয়ে রুহিয়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আটোয়ারী উপজেলার মানুষ নিয়মিত ঠাকুরগাঁও জেলা শহরে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রুহিয়ার পুরাতন পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও মধুপুর কালীতলা বাজার থেকে ঠাকুরগাঁওমুখী সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে অনেক গর্ত বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। ফলে সাইকেল, মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দূরপাল্লার নাইট কোচ, হানিফ ও নাবিল পরিবহনের বাস এবং পণ্যবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসবজি ও কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের জন্যও সড়কটি ব্যবহৃত হয়। ব্যস্ততম সড়ক হওয়া সত্ত্বেও এর প্রশস্ততা তুলনামূলক কম। তার ওপর ভাঙাচোরা পরিস্থিতির কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে সড়কের কিছু অংশে নামমাত্র সংস্কার করা হলেও কয়েক দিন পরই তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। টেকসই সংস্কার না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের দাবি, সড়কটি দ্রুত টেকসইভাবে মেরামতের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে প্রশস্ত করা হোক।
ঢোলারহাট এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সড়কটি সরু ও ভাঙাচোরা হওয়ায় কিছুদিন আগেই এক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সড়কের বিকল্প তেমন না থাকায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে টেকসই সংস্কার প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সড়ক বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ মো. আসিফ জানান, বর্ষার পানি জমে থাকার কারণে রাস্তার বিভিন্ন অংশে গর্ত সৃষ্টি হয়ে ক্ষতি হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব গর্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামত করা হবে। পরবর্তীতে সড়কটির স্থায়ী সমাধান ও নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM