উত্তাল সমুদ্রে যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে যাওয়ার পর শতাধিক নিখোঁজ আরোহীর সন্ধানে ইন্দোনেশিয়ার জলসীমায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে দেশটির নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, বিমান, বিশেষজ্ঞ ডুবুরি এবং পানির নিচে কাজ করতে সক্ষম ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার জাকার্তা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ‘ভিরগো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের যাত্রীবাহী ফেরিটিতে ২১৩ জন যাত্রী ও ৩০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। পূর্ব জাভার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়া থেকে যাত্রা শুরুর পর রোববার ভোরে ফেরিটি পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ হয়।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ সিয়াফি সোমবার জানান, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এখনও ১২৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে দুর্ঘটনার শিকার ১০৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
তিনি জানান, অনুসন্ধান অভিযানে পাঁচটি বিমান এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজসহ ১৭টি আধুনিক নৌযান নিয়োজিত রয়েছে। পুরো তল্লাশি এলাকাকে ছয়টি জোনে ভাগ করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মোহাম্মদ সিয়াফি বলেন, পানিতে ভাসমান জীবিত ব্যক্তিদের সন্ধান করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ডুবে যাওয়া ফেরিটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছেন। নৌযানটির ভেতরে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ ডুবুরি ও আন্ডারওয়াটার ড্রোন নামানো হচ্ছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানান, ফেরিটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ছিল না। সর্বোচ্চ ৫০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার বিপরীতে ফেরিটিতে যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল।
১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় যোগাযোগ ও পর্যটনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌপথ। তবে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও আকস্মিক বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে প্রায়ই নৌ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও দেশটির বানতেন প্রদেশের আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি এলাকায় আট আরোহীসহ একটি স্পিডবোট নিখোঁজ হয়। তাদের মধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কর্মরত পাঁচজন সাংবাদিক রয়েছেন, যাদের সন্ধানে এখনও অভিযান চলছে।
kalprakash.com/IM