জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটদানের অবস্থানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টের জন্য আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ করেছে ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশন। ওয়াশিংটন ফ্রান্সের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বলে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী মিশন এক বিবৃতিতে ওই পোস্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া ওই পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
ফরাসি মিশন তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি ভোটে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তবে এই মতপার্থক্য কেবল নির্দিষ্ট একটি ভোটকে কেন্দ্র করে, মানবাধিকার রক্ষার সামগ্রিক বিষয়কে ঘিরে নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি ভোট নিয়ে প্রকাশ্যে মতপার্থক্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংলাপের পথে বাধা সৃষ্টি করে না। এটি দুই দেশের ঐতিহাসিক মিত্রতা কিংবা শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে না। বহুপক্ষীয় ফোরামেও উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করতে সক্ষম।
ফ্রান্সের এই দুঃখ প্রকাশকে ওয়াশিংটন স্বাগত জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এই কূটনৈতিক বিরোধের জেরে ওয়াশিংটনে ফ্রান্সের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত নিয়োগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন আটকে রেখেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ওয়াশিংটন ফ্রান্সের বিবৃতিটি লক্ষ্য করেছে এবং এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছে। অভিন্ন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক স্বার্থ এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর মনোনীত ফ্রান্সের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত অরেলিয়াঁ লেশেভালিয়ের বর্তমানে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বর্তমান রাষ্ট্রদূত লরাঁ বিলির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণত ফ্রাঙ্কো-আমেরিকান রাষ্ট্রদূত নিয়োগের অনুমোদন একটি নিয়মিত আনুষ্ঠানিকতা হলেও এই পোস্ট-বিতর্কের জেরে বিষয়টি ঝুলে ছিল।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান হিসেবে ভলকার তুর্কের মেয়াদ বৃদ্ধির বিপক্ষে ভোট দেওয়া ১০টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম ছিল। ওই তালিকায় উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও নিকারাগুয়াও ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানের বিরোধিতা করে ফরাসি মিশন এক্সে এক পোস্টে লিখেছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্র একসময় মানবাধিকারের আলোকবর্তিকা ছিল, তবে এখন আর নয়।’ ফরাসি মিশনের সেই সমালোচনামূলক মন্তব্য ঘিরেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
kalprakash.com/IM