নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সময় একাধিকবার পেছানোর পর নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য কয়েকটি সময় নিয়ে আলোচনা চললেও সরকারি কর্মচারীদের অনলাইন বেতন নির্ধারণ ব্যবস্থা ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++) সফটওয়্যারের জটিলতার কারণে গেজেট প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে। তবে এই কারিগরি সমস্যা দ্রুত নিরসন করে পে-স্কেলের গেজেট জারি করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলে কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির ফলে আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে ভগ্নাংশের হিসাব এবং নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণে (পে-ফিক্সেশন) জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে গেজেট প্রকাশের পরও নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এ কারণে পে-ফিক্সেশনের জটিলতা পুরোপুরি দূর করেই গেজেট জারির পক্ষে মত দিচ্ছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, গেজেট প্রকাশের যাবতীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে ধাপে ধাপে বেসিক বৃদ্ধির কারণে পে-ফিক্সেশনও ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হবে। কীভাবে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে এই জটিলতার সমাধান করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, পে-স্কেলের গেজেট ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফিক্সেশন কত ধাপে কার্যকর হবে, সে সংক্রান্ত হিসাবের স্পষ্টতা চূড়ান্ত হলেই দ্রুত সব সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আইবাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ হবে বেতন: নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি কর্মচারীদের অনলাইন বেতন নির্ধারণ ব্যবস্থাকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় কর্মচারীর পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট), পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। তথ্যাদি পূরণ ও যাচাইয়ের পর নতুন কাঠামোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতার পরিমাণ সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে। ফলে কর্মচারীরা সহজেই নিজেদের প্রাপ্যতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। বর্তমানে এই সিস্টেমে অনলাইন বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ, আয়কর হিসাব এবং ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে বেতন ও পেনশন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিন ধাপে পে-ফিক্সেশনের জটিলতা: যেহেতু নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাই প্রতিটি ধাপেই নতুন করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া একাধিকবার সম্পাদন করতে হবে। এই ধাপে ধাপে হিসাব করতে গিয়েই সফটওয়্যারে ভগ্নাংশ সংক্রান্ত কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হলে গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পাবে।
kalprakash.com/IM