গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে যাওয়া সরকার পুনরায় ফিরে এসেছে—সারা পৃথিবীতে এমন কোনো নজির নেই বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, “কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা সবাই একসঙ্গে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন—এমন নজিরও বিশ্বে দ্বিতীয়টি নেই। এটিই প্রথম নজির।”
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে বিমানমন্ত্রী বলেন, “যারা আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফিরে আসা নিয়ে ভাবছেন, তাদের এসব চিন্তা নিছক দুরাশা। বরং তাদের উচিত নিজেদের ভুল স্বীকার করে আত্মশুদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করা।”
ময়মনসিংহ ছাড়া দেশের অন্য সাত বিভাগে বিমানবন্দর থাকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে দেশে আটটি বিমানবন্দর চালু থাকলেও সেগুলোর কয়েকটি বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে আমাদের বহরে বেশ কিছু নতুন এয়ারক্রাফট যুক্ত হতে যাচ্ছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশে নতুন একটি বিমানবন্দর করতে হবে, আর সেক্ষেত্রে ময়মনসিংহ বিভাগকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে চীন থেকে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন আনার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। এসব ট্রেন ঘণ্টায় সাড়ে ৩০০ কিলোমিটার বেগে চলে; তবে আমাদের দেশে গতি কিছুটা কম হলেও কোনো সমস্যা হবে না।
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিস্টরা যদি আর দুই-তিন বছর ক্ষমতায় থাকত, তবে বাংলাদেশ সিকিমের মতো পরাধীন হয়ে যেত। এই ইতিহাস থেকে যদি আমরা শিক্ষা না নিই, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। বিগত শাসনামলে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করে ইচ্ছামতো দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করানো হয়েছে। যে কারণে বিগত প্রায় ২০ বছর দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি। এছাড়া হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের কারণে দেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছিলাম এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আমরা সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছি। এই পরিবর্তনের পেছনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের স্মরণ রাখতে হবে এবং তাঁদের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশ গঠনে কাজ করতে হবে।”
শেরপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে পর্যটনমন্ত্রী জানান, জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশে ঝিনাইগাতীতে একটি আধুনিক পর্যটন মোটেল নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যা থেকে রক্ষা পেতে মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীতে টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ জেলার সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক এ বি এম মামুনুর রশিদ পলাশ।
এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মন্ত্রী সার্কিট হাউসে পৌঁছালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
kalprakash.com/IM