বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি এবং বহুমুখী সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে অভিনন্দন বার্তা পাঠানোর জন্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পাকিস্তান সফরের জন্য পাক-রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের জবাবে তিনি জানান, সুবিধাজনক সময়ে তিনি পাকিস্তান সফর করতে আগ্রহী।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে অভিন্ন ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক বন্ধনের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব ঐতিহ্যগত সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসারে ওষুধশিল্প, সিরামিকস ও কৃষি খাতসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার চলমান বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে চিকিৎসা পর্যটন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বাংলাদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
এছাড়া ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’-এর আওতায় প্রায় ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কোর্সও পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরাসরি বিমান চলাচলের বিষয়ে হাইকমিশনার বলেন, ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন রুট চালুর ক্ষেত্রে উভয় দেশের যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আধুনিক ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উল্লেখ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি, যা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তিনি সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে পাকিস্তানের নেতৃত্বের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বিদ্যমান সম্পর্কের ইতিবাচক গতি কাজে লাগিয়ে আরও ধারাবাহিক ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে একমত পোষণ করে।
সূত্র: প্রেস বিজ্ঞপ্তি
kalprakash.com/IM