পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সাজানো ভিডিও তৈরির অভিযোগে সাংবাদিকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আল্টিমেটামের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে পাবনা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাশেদুল ইসলামকে প্রত্যাহারের এ নির্দেশ দেওয়া হয়। পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিবি ওসি রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি নিজের সরকারি কক্ষে এক নারীকে জিম্মি করে একটি বিশেষ মহলের যোগসাজশে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্যের ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করান। পরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পাবনায় কর্মরত সাংবাদিকরা। তারা ডিবি ওসি রাশেদুল ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার এবং এর সঙ্গে জড়িত কুচক্রীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিতে কঠোর আল্টিমেটাম দেন।
এর আগে গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক নেতারা পাবনা পুলিশ সুপারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা অভিযোগ করে বলেন, ডিবি কার্যালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল সরকারি দপ্তরে একজন নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একজন সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে সাজানো ভিডিও ধারণ ও তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এ ঘটনার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদকর্মীদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, কেবল প্রত্যাহার করলেই এই সংকটের সমাধান হবে না; নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের চিহ্নিত করে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
kalprakash.com/IM