রংপুরের মিঠাপুকুরে হাট থেকে বিদেশি ঘাস বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে এক ব্যবসায়ীকে চলন্ত অটোভ্যান থেকে ফেলে দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর ও রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ঘাস বিক্রির নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঘাস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহত জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের উঁচাবালুয়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম নিয়মিত ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে করে স্থানীয় বিভিন্ন হাটে বিদেশি ঘাস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিনের মতো গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের মুসলিম বাজার হাটে ঘাস বিক্রি করতে যান তিনি। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ঘাস বিক্রি শেষে বাড়ি ফেরার পথে তালিমগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ও তার সহযোগীরা চলন্ত ভ্যানের পথরোধ করে। এ সময় চলন্ত গাড়ি থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা, মুখ, বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা ও অটোভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় ও স্বজনরা খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।
ঘটনার নেপথ্য কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির সামনে গাড়ি পার্কিং ও মাদক সেবন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ, তালিমগঞ্জের তিলকপাড়া গ্রামের কোব্বাতের ছেলে মেহেদী হাসান নিয়মিত এলাকায় মাদক সেবন করতে আসত এবং তাঁদের বাড়ির গেটের সামনে অটোগাড়ি রাখত। এতে নিষেধ করায় মেহেদী ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই পুরোনো ক্ষোভের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তৌহিদুল ইসলাম জানান, তিনি মোড়ে বসে থাকা অবস্থায় দেখতে পান চলন্ত ভ্যানের ওপর মেহেদী হঠাৎ লাফিয়ে উঠে চালককে পেছন থেকে জাপটে ধরে। এতে ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে যায় এবং চালককে নির্দয়ভাবে মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
kalprakash.com/IM