নাটোরের বাগাতিপাড়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ১৪ মাস পর ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে যশোরের মণিহার এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় শিশুটিকে ফুসলিয়ে অপহরণ ও সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের অভিযোগে বন্ধন কুমার (২২) নামের এক যুবকসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিশুটির নানি আছমা খাতুন বাদী হয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত বন্ধন কুমার একই উপজেলার জামনগর মাঝিপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক শ্রী সুনীলের ছেলে।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় সে বাগাতিপাড়ার জামনগর পশ্চিমপাড়ায় নানির বাড়িতে থেকে স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। গত বছরের জুন মাসে বাড়ির পাশ থেকে সে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে ২০২৫ সালের ১২ জুলাই বাগাতিপাড়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের দীর্ঘ ১৪ মাস পর চলতি বছরের ২৫ আগস্ট শিশুটি যশোরের মণিহার এলাকায় এক পথচারীর মোবাইল ফোন চেয়ে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং ঢাকায় মা-বাবার কাছে নিয়ে যান। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে বিস্তারিত জানার পর শনিবার বাগাতিপাড়ায় এসে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেন।
উদ্ধার হওয়া শিশুটি জানায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন অভিযুক্ত বন্ধন কুমার তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে বাড়ির কাছের একটি আমবাগানে যেতে বলে। সেখানে পৌঁছামাত্র একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে থাকা অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে ফুসলিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়।
পরিবারের অভিযোগ, পরবর্তীতে শিশুটিকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করা হয়। সেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে আটকে রেখে নানা ধরনের বেআইনি কাজ করাতে বাধ্য করত। কয়েকবার পালিয়ে আসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও সম্প্রতি সুযোগ বুঝে সে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে এবং যশোরের মণিহার বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
শিশুটির নানি আছমা খাতুন জানান, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর বন্ধন কুমার বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বলেছিল যে সে তাকে তিনটি পৃথক রেলওয়ে স্টেশনে দেখেছে। তখন স্বজনরা তাকে সন্দেহ না করলেও এখন শিশুটির মুখ থেকে পুরো ঘটনা শুনে স্পষ্ট হচ্ছে যে এর সঙ্গে বন্ধন ও পাচারকারী চক্র জড়িত।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বন্ধন কুমার দাবি করেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। স্থানীয় একটি মহলের প্ররোচনায় তাঁকে সামাজিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস জানান, শিশুটিকে পাচারের অভিযোগসংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
kalprakash.com/IM