হরমুজ প্রণালির কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগের পর পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) তাদের বিশেষ নিরাপত্তা ও সহায়তা কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছিল, ইরানের অনুমোদিত নৌপথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দুই মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, হামলাটি ইরান চালিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে ইরানের তথাকথিত ‘গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ বলেছে, নির্ধারিত আন্তর্জাতিক নৌপথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার দায় তারা নেবে না।
চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলার শিকার জাহাজটির নাম ‘এভার লাভলি’। সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটিতে ড্রোন হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে নিরাপত্তা সূত্রগুলোর ধারণা।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, ইরান যদি যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সমঝোতা লঙ্ঘন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
আইএমওর কর্মসূচি স্থগিত
যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ ও হাজারো নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করছিল আইএমও। তবে সর্বশেষ হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য কর্মসূচিটি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, সরিয়ে নেওয়ার তালিকাভুক্ত জাহাজ এবং ওই অঞ্চলে চলাচলরত অন্যান্য জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও স্পষ্ট করেছে, হামলার শিকার ‘এভার লাভলি’ জাহাজটি আইএমওর বিশেষ সরিয়ে নেওয়ার কর্মসূচির আওতায় ছিল না।
অনলাইন ডেস্ক 























