যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অটোপাইলট (ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স) সিস্টেম চালু থাকা একটি টেসলা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়লে ঘরের ভেতরে থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আবারও টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেসলার অটোপাইলট প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এবং বড় অঙ্কের জরিমানার কারণে প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের কেটি এলাকায় শুক্রবার রাতে মাইকেল বাটলারের চালানো টেসলা মডেল ৩ গাড়িটির অটোমেটেড ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম সক্রিয় ছিল। তবে গাড়িটি নির্ধারিত লেন ধরে চলতে ব্যর্থ হয়ে রাস্তা ছেড়ে দ্রুতগতিতে ১৯০৭ ব্লুমিং পার্ক লেনের একটি বাড়িতে সজোরে আঘাত হানে।
দুর্ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে থাকা মার্থা আভিলা গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, চালকের শরীরে মাদক বা অ্যালকোহলের কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি। তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
এর আগে টেসলার অটোপাইলট প্রযুক্তি নিয়ে একাধিক দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NHTSA) তদন্ত শুরু করে। সংস্থাটি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে, অটোপাইলট-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনাগুলো টেসলা কীভাবে নথিভুক্ত ও কর্তৃপক্ষকে জানায়।
এদিকে, ২০১৯ সালের একটি প্রাণঘাতী অটোপাইলট দুর্ঘটনার ঘটনায় সম্প্রতি আদালত টেসলাকে ২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, টেসলার অটোপাইলট বা ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স প্রযুক্তি সম্পূর্ণ স্বয়ংচালিত নয়। এই ফিচার ব্যবহারের সময় চালককে সবসময় সতর্ক থাকতে হয় এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।
অনলাইন ডেস্ক 























