মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বক্তব্যের পর আলোচনার পরিবেশে সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হলেও উভয় পক্ষই এখনো আলোচনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের মিত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এর পরপরই ইরানি প্রতিনিধি দল সাময়িকভাবে বৈঠকস্থল ত্যাগ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা থেকে সরে যায়নি এবং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি বিস্তৃত সমঝোতার লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিনের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা চলছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং লেবাননের পরিস্থিতি এসব আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনাকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস, লেবাননের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং পাল্টাপাল্টি হুমকি এখনো চূড়ান্ত সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, চলমান আলোচনা সফল হলে কয়েক দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো সমাধানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা সেই সম্ভাবনাকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
অনলাইন ডেস্ক 























