বাংলাদেশ ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

দুই সাংবাদিককে হেনস্থার ঘটনায় সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাবের জরুরি সভা, এসিল্যান্ডের অপসারণ ও বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি

তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তা এবং ক্যামেরা-মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে সাদুল্লাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনের দ্রুত অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের নেতারা।

রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শাহজাহান সোহেল।

সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ, সহ-সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল হোসেন জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, সদস্য ছোলায়মান সরকার, সাইদুর রহমান, আব্দুল কাফি সরকার এবং শামিম সর্দার।

বক্তারা বলেন, সরকারি তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকারের ওপরও সরাসরি আঘাত। তারা অভিযোগ করেন, জসিম উদ্দীন সাদুল্লাপুরে যোগদানের পর থেকেই ভূমি সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হয়রানি এবং দায়িত্ব পালনে নানা অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন উগ্র, মারমুখী ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তারা অবিলম্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনকে সাদুল্লাপুর থেকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন প্রেসক্লাব নেতারা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটের হাসানপাড়া মৌজায় অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী দুটি সরকারি প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনের কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদক জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এসিল্যান্ড সাংবাদিকদের সঙ্গে উগ্র ও অপেশাদার আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ধমক দিয়ে সাংবাদিকদের কার্যালয় ত্যাগ করতে বলেন।

এদিকে ঘটনার ভিডিওচিত্র ও সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আশরাফুল ইসলাম। তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য গ্রহণ ও রেকর্ড করা হয়।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
দুই সাংবাদিককে হেনস্থার ঘটনায় সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাবের জরুরি সভা, এসিল্যান্ডের অপসারণ ও বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

দুই সাংবাদিককে হেনস্থার ঘটনায় সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাবের জরুরি সভা, এসিল্যান্ডের অপসারণ ও বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি

প্রকাশিত: ০১:২৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তা এবং ক্যামেরা-মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে সাদুল্লাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনের দ্রুত অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের নেতারা।

রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শাহজাহান সোহেল।

সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ, সহ-সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল হোসেন জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, সদস্য ছোলায়মান সরকার, সাইদুর রহমান, আব্দুল কাফি সরকার এবং শামিম সর্দার।

বক্তারা বলেন, সরকারি তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকারের ওপরও সরাসরি আঘাত। তারা অভিযোগ করেন, জসিম উদ্দীন সাদুল্লাপুরে যোগদানের পর থেকেই ভূমি সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হয়রানি এবং দায়িত্ব পালনে নানা অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন উগ্র, মারমুখী ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তারা অবিলম্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনকে সাদুল্লাপুর থেকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন প্রেসক্লাব নেতারা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটের হাসানপাড়া মৌজায় অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী দুটি সরকারি প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনের কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদক জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এসিল্যান্ড সাংবাদিকদের সঙ্গে উগ্র ও অপেশাদার আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ধমক দিয়ে সাংবাদিকদের কার্যালয় ত্যাগ করতে বলেন।

এদিকে ঘটনার ভিডিওচিত্র ও সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আশরাফুল ইসলাম। তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য গ্রহণ ও রেকর্ড করা হয়।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
দুই সাংবাদিককে হেনস্থার ঘটনায় সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাবের জরুরি সভা, এসিল্যান্ডের অপসারণ ও বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি