বাংলাদেশ ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নিজ জেলায় মহানগর পুলিশে আর দায়িত্ব নয়, শতাধিক সদস্যের বদলির সিদ্ধান্ত Logo নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা Logo চাটমোহরে মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে সাইলেন্সারে অতিষ্ঠ জনজীবন Logo মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী মানবিক সহায়তা কর্মসূচি Logo রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ছাত্রলীগ–যুবলীগসহ গ্রেপ্তার ৫ Logo জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo সিএমপির সাইবার সাপোর্ট অ্যান্ড রেসপন্স সেন্টারের উদ্বোধন Logo শর্ত পূরণ করলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে সবাই: জাহেদ উর রহমান Logo চিতলমারীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার Logo ভেজাল দুধ ব্যবসায়ী মমিনের ফাঁসির দাবিতে চাটমোহরে মানববন্ধন

হরমুজ প্রণালিতে সাবমেরিন ক্যাবলকে নতুন কৌশলগত হাতিয়ার বানাতে চায় ইরান

সংগৃহীত ছবি

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা সাবমেরিন ইন্টারনেট ক্যাবলকে নতুন কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে ইরান। এসব ক্যাবলের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ও আর্থিক তথ্য আদান-প্রদান হয়ে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি করিডরে এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রসমর্থিত ও সামরিক ঘনিষ্ঠ মহল থেকে হরমুজ প্রণালির ক্যাবল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফি আরোপের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বক্তব্যে বলেন, ইন্টারনেট কেবলের ওপর ফি আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ইরানের আইন না মানলে ক্যাবল কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হতে পারে।

রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করেছে, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ইরানের আইন মেনে চলতে হবে এবং লাইসেন্স ফি দিতে হবে।

বিশ্বের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ইন্টারনেট নয়, ব্যাংকিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

তবে টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ভেতর দিয়ে যাওয়া ক্যাবল বৈশ্বিক ব্যান্ডউইথের এক শতাংশেরও কম বহন করে, ফলে বিশ্বব্যাপী প্রভাব সীমিত হলেও আঞ্চলিকভাবে তা মারাত্মক হতে পারে।

সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সাবমেরিন কেবল লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রাখে বলে ধারণা করা হয়। যদিও সরাসরি আক্রমণের ঘোষণা নেই, তবে অতীত সংঘাত ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এ ধরনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনৈতিক দিক থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট বিভ্রাট হলে তেল-গ্যাস রপ্তানি, ব্যাংকিং সেবা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, ইরান জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী নিজ জলসীমায় কিছু নিয়ন্ত্রণ দাবি করলেও বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তিতে একতরফা পরিবর্তন জটিলতা তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হরমুজ প্রণালিকে শুধু জ্বালানি নয়, বরং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে কৌশলগত চাপ বাড়াতে চাইছে।

kalprakash.com/SS
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে সাবমেরিন ক্যাবলকে নতুন কৌশলগত হাতিয়ার বানাতে চায় ইরান
জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ জেলায় মহানগর পুলিশে আর দায়িত্ব নয়, শতাধিক সদস্যের বদলির সিদ্ধান্ত

হরমুজ প্রণালিতে সাবমেরিন ক্যাবলকে নতুন কৌশলগত হাতিয়ার বানাতে চায় ইরান

প্রকাশিত: ০৪:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা সাবমেরিন ইন্টারনেট ক্যাবলকে নতুন কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে ইরান। এসব ক্যাবলের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ও আর্থিক তথ্য আদান-প্রদান হয়ে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি করিডরে এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রসমর্থিত ও সামরিক ঘনিষ্ঠ মহল থেকে হরমুজ প্রণালির ক্যাবল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফি আরোপের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বক্তব্যে বলেন, ইন্টারনেট কেবলের ওপর ফি আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ইরানের আইন না মানলে ক্যাবল কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হতে পারে।

রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করেছে, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ইরানের আইন মেনে চলতে হবে এবং লাইসেন্স ফি দিতে হবে।

বিশ্বের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ইন্টারনেট নয়, ব্যাংকিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

তবে টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ভেতর দিয়ে যাওয়া ক্যাবল বৈশ্বিক ব্যান্ডউইথের এক শতাংশেরও কম বহন করে, ফলে বিশ্বব্যাপী প্রভাব সীমিত হলেও আঞ্চলিকভাবে তা মারাত্মক হতে পারে।

সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সাবমেরিন কেবল লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রাখে বলে ধারণা করা হয়। যদিও সরাসরি আক্রমণের ঘোষণা নেই, তবে অতীত সংঘাত ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এ ধরনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনৈতিক দিক থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট বিভ্রাট হলে তেল-গ্যাস রপ্তানি, ব্যাংকিং সেবা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, ইরান জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী নিজ জলসীমায় কিছু নিয়ন্ত্রণ দাবি করলেও বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তিতে একতরফা পরিবর্তন জটিলতা তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হরমুজ প্রণালিকে শুধু জ্বালানি নয়, বরং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে কৌশলগত চাপ বাড়াতে চাইছে।

kalprakash.com/SS
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে সাবমেরিন ক্যাবলকে নতুন কৌশলগত হাতিয়ার বানাতে চায় ইরান