বাংলাদেশ ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

মার্কিন অস্ত্র থেকেই নতুন প্রযুক্তি? ইরানকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

সংগৃহীত ছবি

ইরানের ভূখণ্ডে অবিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি অস্ত্র এখন দেশটির সামরিক গবেষণাগারে রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এসব অস্ত্রের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে তেহরান—এমন আলোচনা নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমোজগান প্রদেশ থেকে অন্তত ১৫টি ভারী মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে এসব অস্ত্র ইরানের ভেতরে পড়লেও অনেকগুলো বিস্ফোরিত হয়নি।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ‘জিবিইউ-৫৭ বাংকার বাস্টার’ বোমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই বোমা ভূগর্ভস্থ বাংকার ধ্বংসে ব্যবহৃত হয় এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ভেদক্ষমতার জন্য পরিচিত। এছাড়া টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, এজিএম-১৫৮ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এমকিউ-৯ ড্রোনের বিভিন্ন অংশও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের কঠোরপন্থি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, এসব অস্ত্র এখন দেশটির কারিগরি ও গবেষণা ইউনিটের হাতে রয়েছে এবং সেগুলোর প্রযুক্তি বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সম্ভবত এসব অস্ত্রের ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা করবে। অর্থাৎ অস্ত্র খুলে এর নকশা, প্রযুক্তি ও কার্যপদ্ধতি বুঝে একই ধরনের প্রযুক্তি নিজেদের সক্ষমতায় যুক্ত করার প্রচেষ্টা চালানো হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ইরানের অতীত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরকিউ-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছিল তেহরান। পরে সেই প্রযুক্তির ভিত্তিতে তারা নিজস্ব ড্রোন তৈরি করে বলে ধারণা করা হয়। ইরানের বহুল আলোচিত ‘শাহেদ’ ড্রোনের উন্নয়নেও সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

তাদের মতে, ইরান যদি নতুন অস্ত্রগুলোর প্রযুক্তিগত কাঠামো বুঝে ফেলতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর হামলা মোকাবিলা করা তাদের জন্য সহজ হতে পারে।

এদিকে ইরানের একটি মহল এসব প্রযুক্তিগত তথ্য রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভাগাভাগির আহ্বান জানিয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এমনটি হলে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে নতুন প্রভাব পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে সামরিক প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও অস্ত্র ব্যবস্থার সুরক্ষা নিয়ে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করবে।

kalprakash.com/SS
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
মার্কিন অস্ত্র থেকেই নতুন প্রযুক্তি? ইরানকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

মার্কিন অস্ত্র থেকেই নতুন প্রযুক্তি? ইরানকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশিত: ০৪:৫০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ইরানের ভূখণ্ডে অবিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি অস্ত্র এখন দেশটির সামরিক গবেষণাগারে রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এসব অস্ত্রের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে তেহরান—এমন আলোচনা নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমোজগান প্রদেশ থেকে অন্তত ১৫টি ভারী মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে এসব অস্ত্র ইরানের ভেতরে পড়লেও অনেকগুলো বিস্ফোরিত হয়নি।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ‘জিবিইউ-৫৭ বাংকার বাস্টার’ বোমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই বোমা ভূগর্ভস্থ বাংকার ধ্বংসে ব্যবহৃত হয় এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ভেদক্ষমতার জন্য পরিচিত। এছাড়া টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, এজিএম-১৫৮ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এমকিউ-৯ ড্রোনের বিভিন্ন অংশও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের কঠোরপন্থি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, এসব অস্ত্র এখন দেশটির কারিগরি ও গবেষণা ইউনিটের হাতে রয়েছে এবং সেগুলোর প্রযুক্তি বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সম্ভবত এসব অস্ত্রের ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা করবে। অর্থাৎ অস্ত্র খুলে এর নকশা, প্রযুক্তি ও কার্যপদ্ধতি বুঝে একই ধরনের প্রযুক্তি নিজেদের সক্ষমতায় যুক্ত করার প্রচেষ্টা চালানো হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ইরানের অতীত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আরকিউ-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছিল তেহরান। পরে সেই প্রযুক্তির ভিত্তিতে তারা নিজস্ব ড্রোন তৈরি করে বলে ধারণা করা হয়। ইরানের বহুল আলোচিত ‘শাহেদ’ ড্রোনের উন্নয়নেও সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

তাদের মতে, ইরান যদি নতুন অস্ত্রগুলোর প্রযুক্তিগত কাঠামো বুঝে ফেলতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর হামলা মোকাবিলা করা তাদের জন্য সহজ হতে পারে।

এদিকে ইরানের একটি মহল এসব প্রযুক্তিগত তথ্য রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভাগাভাগির আহ্বান জানিয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এমনটি হলে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে নতুন প্রভাব পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে সামরিক প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও অস্ত্র ব্যবস্থার সুরক্ষা নিয়ে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করবে।

kalprakash.com/SS
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
মার্কিন অস্ত্র থেকেই নতুন প্রযুক্তি? ইরানকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ