বাংলাদেশ ০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে প্রচারের নতুন প্রতীক ‘মাছ’, বিজেপি–তৃণমূলের কৌশলগত লড়াই তীব্র

সংগৃহীত ছবি

বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক প্রচারণা এখন নতুন রূপ নিয়েছে। সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘মাছ’।

আইনজীবী থেকে রাজনীতিতে আসা বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী ব্যারাকপুরে প্রচারে হাতে মাছ নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। কোনো বড় প্রতিশ্রুতি নয়, বরং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতেই তিনি এই প্রতীকী কৌশল ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে।

একইভাবে কলকাতার বন্দর এলাকায় বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংও প্রচারে মাছকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে মাছ শুধু খাদ্য নয়, বরং সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে নির্বাচনী প্রচারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বিজেপি বাংলার খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। তার মতে, মাছ-ভাত বাঙালির জীবনধারার অংশ এবং এতে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নই নেই। দলের নেতারা দাবি করছেন, উন্নয়ন ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরাতেই এ ধরনের বক্তব্য আনা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন, দীর্ঘ শাসনেও রাজ্যে মাছ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জিত হয়নি। এর জবাবে তৃণমূল দাবি করছে, রাজ্যের অধিকাংশ মাছের চাহিদা স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রচারে মাছ এখন কেবল খাদ্য নয়, বরং পরিচয় ও আবেগের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজ্যের সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই উপাদানটি ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির একটি কৌশল হয়ে উঠেছে।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে প্রচারের নতুন প্রতীক ‘মাছ’, বিজেপি–তৃণমূলের কৌশলগত লড়াই তীব্র

প্রকাশিত: ০১:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক প্রচারণা এখন নতুন রূপ নিয়েছে। সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘মাছ’।

আইনজীবী থেকে রাজনীতিতে আসা বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী ব্যারাকপুরে প্রচারে হাতে মাছ নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। কোনো বড় প্রতিশ্রুতি নয়, বরং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতেই তিনি এই প্রতীকী কৌশল ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে।

একইভাবে কলকাতার বন্দর এলাকায় বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংও প্রচারে মাছকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে মাছ শুধু খাদ্য নয়, বরং সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে নির্বাচনী প্রচারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বিজেপি বাংলার খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। তার মতে, মাছ-ভাত বাঙালির জীবনধারার অংশ এবং এতে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নই নেই। দলের নেতারা দাবি করছেন, উন্নয়ন ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরাতেই এ ধরনের বক্তব্য আনা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন, দীর্ঘ শাসনেও রাজ্যে মাছ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জিত হয়নি। এর জবাবে তৃণমূল দাবি করছে, রাজ্যের অধিকাংশ মাছের চাহিদা স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রচারে মাছ এখন কেবল খাদ্য নয়, বরং পরিচয় ও আবেগের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজ্যের সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই উপাদানটি ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির একটি কৌশল হয়ে উঠেছে।

kalprakash.com/SS