বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) নিয়োগে দীর্ঘদিনের জট, ধীরগতি ও অনিশ্চয়তা কাটাতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে নতুন এই পরিকল্পনাগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়া নতুন কমিশনের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’—অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০০ কমিয়ে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে পিএসসি নিজস্ব প্রেস স্থাপন এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অটোমেশনের আওতায় আনার ফলে খাতা মূল্যায়নের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে—আগে যেখানে প্রায় ছয় মাস লাগত, এখন তা কয়েক সপ্তাহে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাকরিপ্রার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে আবেদন ফি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, এক সময় কমিশন প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, তবে পুরনো সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এটিকে আধুনিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, এই সংস্কারের মাধ্যমে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই উদ্যোগ শুধু বিসিএসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; নন-ক্যাডারসহ অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষাতেও একই ধরনের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনা হবে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ফল প্রকাশের সময় কমে আসবে এবং দীর্ঘদিনের অপেক্ষা থেকে মুক্তি পাবেন চাকরিপ্রার্থীরা। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ এবং আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার কাজও শুরু করেছে পিএসসি।
kalprakash.com/SS