বাংলাদেশ ০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ইতিহাস ও স্থাপত্যের জীবন্ত জাদুঘর: প্রাচীন নগরী সানআ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনের রাজধানী সানআ প্রাচীন ঐতিহ্যের নগরী, যার শিকড় ইতিহাসের বহু গভীরে প্রোথিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থানরত এই শহরটি ভৌগোলিকভাবে ১৫°২১’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৪৪°১২’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।

বিশ্বের প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্নভাবে বসবাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে সানআ অন্যতম। শহরের চারপাশে সৌদি আরব, ওমান, লোহিত সাগর ও আরব সাগর বিস্তৃত হওয়ায় এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের আগমনের বহু আগে থেকেই সানআ ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও ধর্মীয় কেন্দ্র। প্রাচীন দুর্গ ঘুমদান-এর স্থানে গড়ে ওঠা শহরটি আরব খ্রিস্টানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্যও এটি একটি প্রাণবন্ত আবাসভূমি ছিল।

বাণিজ্যিক দিক থেকে সানআ ছিল আরব উপদ্বীপের অন্যতম কেন্দ্র। বর্তমানে শহরে রয়েছে প্রায় ৪১টি ঐতিহ্যবাহী বাজার, যেখানে হস্তশিল্প, অলংকার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পাওয়া যায়। সানআয়ের অনন্য স্থাপত্যশৈলী, নকশাকৃত বহুতল ঘরবাড়ি, সবুজ বাগান এবং খোলা চত্বর বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। এই অসাধারণ ঐতিহ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো সানাকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

সানআয়ের জলবায়ু শুষ্ক প্রকৃতির। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা তুলনামূলক উষ্ণ হলেও শীতকালে ৬°C পর্যন্ত নেমে যায়। শহরটি নুকুম পর্বতমালার পশ্চিমে বিস্তৃত সমভূমিতে গড়ে উঠেছে, যা শহরটিকে অনন্য সৌন্দর্য দিয়েছে। তবে ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে শহরের ভূগোলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকে নগর বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হয়।

শুষ্ক ও খরাপ্রবণ হওয়ায় এখানকার কৃষি ও পশুপালন কূপের পানি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। সানআ শুধু একটি রাজধানী নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের জীবন্ত জাদুঘর। প্রাচীন ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এবং কৌশলগত গুরুত্ব মিলিয়ে শহরটি আজও বিশ্বের কাছে এক বিস্ময়ের নাম।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতিহাস ও স্থাপত্যের জীবন্ত জাদুঘর: প্রাচীন নগরী সানআ

প্রকাশিত: ০৪:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনের রাজধানী সানআ প্রাচীন ঐতিহ্যের নগরী, যার শিকড় ইতিহাসের বহু গভীরে প্রোথিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থানরত এই শহরটি ভৌগোলিকভাবে ১৫°২১’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৪৪°১২’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।

বিশ্বের প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্নভাবে বসবাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে সানআ অন্যতম। শহরের চারপাশে সৌদি আরব, ওমান, লোহিত সাগর ও আরব সাগর বিস্তৃত হওয়ায় এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের আগমনের বহু আগে থেকেই সানআ ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও ধর্মীয় কেন্দ্র। প্রাচীন দুর্গ ঘুমদান-এর স্থানে গড়ে ওঠা শহরটি আরব খ্রিস্টানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্যও এটি একটি প্রাণবন্ত আবাসভূমি ছিল।

বাণিজ্যিক দিক থেকে সানআ ছিল আরব উপদ্বীপের অন্যতম কেন্দ্র। বর্তমানে শহরে রয়েছে প্রায় ৪১টি ঐতিহ্যবাহী বাজার, যেখানে হস্তশিল্প, অলংকার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পাওয়া যায়। সানআয়ের অনন্য স্থাপত্যশৈলী, নকশাকৃত বহুতল ঘরবাড়ি, সবুজ বাগান এবং খোলা চত্বর বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। এই অসাধারণ ঐতিহ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো সানাকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

সানআয়ের জলবায়ু শুষ্ক প্রকৃতির। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা তুলনামূলক উষ্ণ হলেও শীতকালে ৬°C পর্যন্ত নেমে যায়। শহরটি নুকুম পর্বতমালার পশ্চিমে বিস্তৃত সমভূমিতে গড়ে উঠেছে, যা শহরটিকে অনন্য সৌন্দর্য দিয়েছে। তবে ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে শহরের ভূগোলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকে নগর বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হয়।

শুষ্ক ও খরাপ্রবণ হওয়ায় এখানকার কৃষি ও পশুপালন কূপের পানি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। সানআ শুধু একটি রাজধানী নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের জীবন্ত জাদুঘর। প্রাচীন ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এবং কৌশলগত গুরুত্ব মিলিয়ে শহরটি আজও বিশ্বের কাছে এক বিস্ময়ের নাম।

kalprakash.com/SS