বাংলাদেশ ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

খামেনির শেষ ছবি প্রকাশ করল ইরান

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জীবিত অবস্থার শেষ ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনা। সিসিটিভি ক্যামেরায় ছবিটি তোলা হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর কিছুক্ষণ আগে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের স্থানীয় সময় বেলা ১০টার দিকে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বোমাবর্ষণ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ইরনার তথ্য অনুসারে, ছবিটি তোলা হয়েছিল ওই দিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে, অর্থাৎ হামলা শুরুর মাত্র ২০ মিনিট আগে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি কক্ষে সোফায় বসে বই পড়ছেন খামেনি। তার সোফার পাশে একটি ছোটো টেবিলে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি)-এর নিহত কমান্ডার কাশেম সোলায়মানির একটি ফ্রেমবন্দি ছবি এবং সেই টেবিলের পাশের একটি শেলফের ওপর দু’টি ফ্রেমবন্দি ছবি। এ দু’টি ছবির মধ্যে একটি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রধান নেতা এবং ১৯৭৯ সালে বিপ্লবের পর দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির।

ইরানের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, ছবিতে খামেনিকে যে বইটি পড়তে দেখা যাচ্ছে— সেটি পবিত্র কোরান।

— DD Geopolitics (@DD_Geopolitics) March 27, 2026

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনির মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।

ইসলামি বিপ্লবোত্তর ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতা প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। ইরানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক— সব খাতেই প্রভূত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নেতাকে।

প্রায় ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন খামেনি। এই সময়সীমায় ইরানকে একের পর এক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, গুপ্তহত্যা, যুদ্ধ এবং সীমাহীন চাপ সহ্য করতে হয়েছে। এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ইরানকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন খামেনি।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। মৃত্যুকালে খামেনির বয়স ছিল ৮৯ বছর।

সূত্র : জিও টিভি

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
খামেনির শেষ ছবি প্রকাশ করল ইরান
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

খামেনির শেষ ছবি প্রকাশ করল ইরান

প্রকাশিত: ০১:৫৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জীবিত অবস্থার শেষ ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনা। সিসিটিভি ক্যামেরায় ছবিটি তোলা হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর কিছুক্ষণ আগে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের স্থানীয় সময় বেলা ১০টার দিকে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বোমাবর্ষণ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ইরনার তথ্য অনুসারে, ছবিটি তোলা হয়েছিল ওই দিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে, অর্থাৎ হামলা শুরুর মাত্র ২০ মিনিট আগে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি কক্ষে সোফায় বসে বই পড়ছেন খামেনি। তার সোফার পাশে একটি ছোটো টেবিলে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি)-এর নিহত কমান্ডার কাশেম সোলায়মানির একটি ফ্রেমবন্দি ছবি এবং সেই টেবিলের পাশের একটি শেলফের ওপর দু’টি ফ্রেমবন্দি ছবি। এ দু’টি ছবির মধ্যে একটি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রধান নেতা এবং ১৯৭৯ সালে বিপ্লবের পর দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির।

ইরানের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, ছবিতে খামেনিকে যে বইটি পড়তে দেখা যাচ্ছে— সেটি পবিত্র কোরান।

— DD Geopolitics (@DD_Geopolitics) March 27, 2026

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনির মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।

ইসলামি বিপ্লবোত্তর ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতা প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। ইরানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক— সব খাতেই প্রভূত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নেতাকে।

প্রায় ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন খামেনি। এই সময়সীমায় ইরানকে একের পর এক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, গুপ্তহত্যা, যুদ্ধ এবং সীমাহীন চাপ সহ্য করতে হয়েছে। এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ইরানকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন খামেনি।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। মৃত্যুকালে খামেনির বয়স ছিল ৮৯ বছর।

সূত্র : জিও টিভি

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
খামেনির শেষ ছবি প্রকাশ করল ইরান