ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ সম্পর্কে ভয়াবহ তথ্য। জানা গেছে, তিনি হঠাৎ করে মানসিকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েননি; বরং দীর্ঘদিন ধরেই তার আচরণ নিয়ে উদ্বেগে ছিল নিজের পরিবার।
পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছিল এবং আদালতে সুরক্ষা আদেশের আবেদনও করা হয়েছিল। কিন্তু আইনি জটিলতা ও ব্যবস্থাগত সীমাবদ্ধতার কারণে শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
হিশামের ছোট ভাই ২২ বছর বয়সী আহমাদ আবুগারবিয়েহ সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তারা আগেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি শুধু জামিল ও বৃষ্টির কথা ভাবছি, আমরা সবকিছুর জন্য গভীরভাবে দুঃখিত। পুরো পরিবার এখন লজ্জা ও অনুতাপে ভুগছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালেই আহমাদ নিজেই তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশের আবেদন করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, হিশাম তার ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছিলেন এবং মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল। ওই সময় আদালত সুরক্ষা আদেশ মঞ্জুর করে।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালে পরিবার আবারও সুরক্ষা আদেশের আবেদন করলেও তা আদালতে বাতিল হয়ে যায়। কারণ হিসেবে বলা হয়, আগের ফৌজদারি অভিযোগ যথাযথভাবে এগোয়নি। আহমাদ জানান, অর্থনৈতিক কারণে তিনি এক পর্যায়ে মামলাটি চালিয়ে যেতে পারেননি, যা নিয়ে এখন তিনি গভীর অনুশোচনায় ভুগছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, হিশামের আচরণ ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও সহিংস। মাঝে মাঝে তিনি নিজেকে ঈশ্বর দাবি করতেন এবং চরমভাবে উত্তেজিত আচরণ করতেন।
অন্যদিকে নিহত জামিল লিমনও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হিশামের আচরণকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবুও তাকে থামাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার দিন হিশাম পারিবারিক বাসায় ফিরে আসার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় এবং পুলিশ ডাকতে বাধ্য হয় পরিবার। পরে সোয়াট টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।
বর্তমানে হিশাম আবুগারবিয়েহ কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির দুটি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























