যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজ ও পরবর্তী হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যার পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হয়েছে—চ্যাটজিপিটিতে অনুসন্ধানের মাধ্যমে অপরাধের পরিকল্পনা সাজানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফরেনসিক পরীক্ষায় হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ জামিল লিমনের বলে নিশ্চিত হয়েছে।
এ ঘটনায় তাদের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহকে প্রধান অভিযুক্ত করে প্রথম শ্রেণির হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
তদন্ত নথি অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল জামিলের নিখোঁজের পর তার বন্ধু অ্যাপার্টমেন্টে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেন তিনি কিছু জানেন না, যদিও সেখানে জামিলের স্কুটার পাওয়া যায়।
বৃষ্টির শেষ যোগাযোগ হয় ১৬ এপ্রিল দুপুরে, এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন দুপুরে তিনি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হন।
তদন্তে আরও জানা যায়, জামিলের ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিং এবং অভিযুক্তের গাড়ির গতিবিধির মধ্যে সময়গত মিল পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযুক্তের অনলাইন অর্ডার ইতিহাসে ডাক্টটেপ, ফায়ার স্টার্টার, লাইটার ফুয়েল ও নকল দাড়ি কেনার তথ্য পাওয়া যায়, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও দৃঢ় করে।
অভিযুক্তের ফোনে চ্যাটজিপিটিতে করা কিছু অনুসন্ধানও তদন্তে উঠে এসেছে, যেখানে সম্ভাব্যভাবে অপরাধ আড়াল করার উপায় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
পরে ২৪ এপ্রিল একটি তল্লাশিতে সেতুর কাছে কালো ব্যাগের ভেতর থেকে জামিল লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ফরেনসিক প্রতিবেদনে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউএসএফ এক বিবৃতিতে ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে।
তদন্ত চলমান রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ এখনো বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























