হজ এক আত্মিক ও প্রেমময় ইবাদত, যেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় মুসল্লিরা নিজের দেশ, পরিবার ও প্রিয়জন ছেড়ে পবিত্র ভূমিতে সমবেত হন। বান্দার এই ত্যাগের প্রতিদানে মহান আল্লাহও তার দোয়ায় সাড়া দেন। তাই আলেমদের মতে, হজের সময় দোয়া কবুলের বিশেষ সুযোগ থাকে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে হজের সফরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে, যেখানে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
দোয়া কবুলের স্থানগুলো:
তাওয়াফের সময়:
হজরত আবদুল্লাহ বিন সায়িব (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাওয়াফের সময় রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে এই দোয়া পড়তেন—
হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৯২)
সায়ির সময়:
সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সায়ি করার সময় দোয়া কবুল হয়। হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) সাফা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে দোয়া করেছেন।
(সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২৯৮৫)
আরাফার ময়দানে:
আরাফার দিন ও ময়দান দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময় ও স্থান। মহানবী (সা.) বলেন, আরাফার দিনের দোয়াই সর্বোত্তম দোয়া। তিনি সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করেছেন।
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৮৫)
মুজদালিফায়:
মুজদালিফার মাশআরুল হারামে অবস্থান করে কিবলামুখী হয়ে দোয়া করা সুন্নত। এখানে রাসুল (সা.) আল্লাহর প্রশংসা ও তাওহিদ ঘোষণা করে দীর্ঘ সময় দোয়া করেন।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)
দুই জামরার মাঝে:
আইয়ামে তাশরিকে ছোট ও মধ্যম জামরায় পাথর নিক্ষেপের পর মহানবী (সা.) কিবলামুখী হয়ে হাত উঠিয়ে দীর্ঘ সময় দোয়া করেছেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৫৩)
রিয়াজুল জান্নাতে:
মদিনায় মহানবী (সা.)-এর রওজা সংলগ্ন রিয়াজুল জান্নাতকে জান্নাতের বাগানের অংশ বলা হয়েছে। এখানে দোয়া কবুলের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩৩৫)
হাজিদের দোয়া কবুলের সুসংবাদ
নির্দিষ্ট স্থান ছাড়াও পুরো হজের সফরই দোয়া কবুলের সময়। মহানবী (সা.) বলেছেন, হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা আল্লাহর প্রতিনিধি; তারা দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে ক্ষমা করেন।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৮৯২)
এছাড়া মুসাফিরের দোয়াও কবুল হয়। হাদিসে এসেছে, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়—পিতার দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং মাজলুমের দোয়া।
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৩৬)
উলামায়ে কেরামের মতে, দোয়া কবুলের জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা, পূর্ণ বিশ্বাস এবং আদব বজায় রেখে আল্লাহর কাছে বিনয়ের সঙ্গে প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা সবাইকে হজের বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























