মানবজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হলো সুখী দাম্পত্য জীবন। কিন্তু বর্তমান সময়ে তুচ্ছ কারণে দাম্পত্য কলহ, বিচ্ছেদ ও অশান্তি দিন দিন বেড়ে চলেছে। এর অন্যতম কারণ হলো আমরা দাম্পত্য জীবনের প্রকৃত আদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া। অথচ সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনাচরণে এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা অনুসরণ করলে দাম্পত্য জীবন শান্তি, ভালোবাসা ও কল্যাণে পরিপূর্ণ হতে পারে।
নিম্নে দাম্পত্য জীবনে শান্তি লাভে করণীয় কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো—
পরস্পর ভালোবাসা:
দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি হলো পরস্পর ভালোবাসা। মহান আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘মহব্বত ও রহমত’ সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রূম: ২১)
অনেকে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন, যা ভুল ধারণা। নবী (সা.) তাঁর স্ত্রীদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতেন এবং স্নেহ-আদর দেখাতেন।
হাদিসে এসেছে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি কে? তিনি বললেন আয়েশা (রা.)। (ইবনে মাজাহ: ১০১)
কোমলতা:
দাম্পত্য জীবনের অপরিহার্য গুণ কোমলতা। নবী (সা.) কখনো স্ত্রী বা অন্য কারও প্রতি কঠোর আচরণ করেননি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল ও কোমল স্বভাবের।
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) কখনো কোনো নারী বা খাদিমকে নিজের হাতে আঘাত করেননি। (মুসলিম: ৫৯৪৪)
বিনয়:
বিনয় দাম্পত্য সম্পর্ককে দৃঢ় করে। নবী (সা.) ঘরের কাজেও স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন। এটি প্রমাণ করে যে, স্ত্রীকে সাহায্য করা মর্যাদাহানিকর নয়।
আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সা.) ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। (বুখারি: ৬৭৬)
পরস্পর হাস্যরস:
দাম্পত্য জীবনে হাসি-আনন্দ গুরুত্বপূর্ণ। নবী (সা.) স্ত্রীদের সঙ্গে হাস্যরস করতেন এবং সময় কাটাতেন। (আবু দাউদ: ২৫৭৮)
সমস্যা সমাধানে ধৈর্য:
দাম্পত্য জীবনে মতভেদ স্বাভাবিক। তবে তা ধৈর্য ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। নবী (সা.) কখনো কঠোরতা দিয়ে সমস্যা সমাধান করেননি।
(তিরমিজি: ৩৮৯৪)
বিশ্বস্ততা ও কৃতজ্ঞতা:
নবী (সা.) খাদিজা (রা.)-কে মৃত্যুর পরও স্মরণ করতেন এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। (তিরমিজি: ২০১৭)
একে অপরকে বোঝা:
স্বামী-স্ত্রী একে অপরের মনোভাব বুঝতে পারা অত্যন্ত জরুরি। এটি সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।
(বুখারি: ৫২২৮)
সন্তুষ্টি ও তৃপ্তি:
অল্পে সন্তুষ্ট থাকা দাম্পত্য জীবনের প্রকৃত সুখ এনে দেয়। নবী (সা.)-এর পরিবারে বিলাসিতা ছিল না, তবুও সেখানে ছিল শান্তি ও তৃপ্তি।
(মুসলিম: ৭৩৪২)
মূল কথা হলো, দাম্পত্য সুখ বাহ্যিক সম্পদে নয়, বরং ভালোবাসা, সহানুভূতি, ধৈর্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে। নবী (সা.)-এর জীবনই আমাদের সর্বোত্তম আদর্শ।
আল্লাহ তাআলা সকল পরিবারকে শান্তি ও সুখ দান করুন। আমিন।
kalprakash.com/SS
কাল প্রকাশ 























