বাংলাদেশ ০৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

বাজেট বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজেট ঘাটতিও

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাজেটের আকার প্রতি বছর বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজেট ঘাটতিও। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত বাজেট ও অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকার ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

সোমবার (২৯ জুন) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়। সভায় বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন অর্থবছরের জন্য ১০৬ কোটি ৪ হাজার টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ফলে চাহিদা ও অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া অনুমোদিত বাজেটের মধ্যেও ৯০ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ঘাটতি রয়েছে। অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে ইউজিসি থেকে পাওয়া যাবে ৭১ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং প্রারম্ভিক জের হিসেবে রয়েছে ২ কোটি ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ও অনুমোদিত বাজেটের ব্যবধানের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে অনুমোদিত বাজেটের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ফলে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় সীমাবদ্ধতা নিয়েই নতুন অর্থবছর শুরু করতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে।

প্রশাসনের দাবি, বাজেটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের অর্থ মূল বরাদ্দের সঙ্গে আসে না। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বাজেট প্রস্তাবে এসব খাত অন্তর্ভুক্ত করতে হয় বলেই প্রাথমিকভাবে ঘাটতি দেখা যায়।

বিগত অর্থবছরগুলোর তথ্যেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা ছিল ৯২ কোটি ৭০ লাখ ৪২ হাজার টাকা। কিন্তু অনুমোদন দেওয়া হয় ৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবধান ছিল।

এ ছাড়া ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত বাজেটে ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ১ কোটি ২৫ লাখ ১৪ হাজার টাকার ঘাটতি ছিল।

বাজেট ঘাটতির বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘এবার আমাদের কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। বিআরটিসি বাস ভাড়া, আউটসোর্সিং এবং গবেষণা খাতের বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘাটতি বাজেট উপস্থাপন করতে হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি, প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসব খাতের অর্থ পাওয়া যাবে।’

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
বাজেট বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজেট ঘাটতিও
জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেট বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজেট ঘাটতিও

প্রকাশিত: ০১:০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাজেটের আকার প্রতি বছর বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজেট ঘাটতিও। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত বাজেট ও অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকার ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

সোমবার (২৯ জুন) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়। সভায় বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন অর্থবছরের জন্য ১০৬ কোটি ৪ হাজার টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ফলে চাহিদা ও অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া অনুমোদিত বাজেটের মধ্যেও ৯০ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ঘাটতি রয়েছে। অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে ইউজিসি থেকে পাওয়া যাবে ৭১ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং প্রারম্ভিক জের হিসেবে রয়েছে ২ কোটি ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ও অনুমোদিত বাজেটের ব্যবধানের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে অনুমোদিত বাজেটের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ফলে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় সীমাবদ্ধতা নিয়েই নতুন অর্থবছর শুরু করতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে।

প্রশাসনের দাবি, বাজেটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের অর্থ মূল বরাদ্দের সঙ্গে আসে না। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বাজেট প্রস্তাবে এসব খাত অন্তর্ভুক্ত করতে হয় বলেই প্রাথমিকভাবে ঘাটতি দেখা যায়।

বিগত অর্থবছরগুলোর তথ্যেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা ছিল ৯২ কোটি ৭০ লাখ ৪২ হাজার টাকা। কিন্তু অনুমোদন দেওয়া হয় ৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবধান ছিল।

এ ছাড়া ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত বাজেটে ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ১ কোটি ২৫ লাখ ১৪ হাজার টাকার ঘাটতি ছিল।

বাজেট ঘাটতির বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘এবার আমাদের কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। বিআরটিসি বাস ভাড়া, আউটসোর্সিং এবং গবেষণা খাতের বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘাটতি বাজেট উপস্থাপন করতে হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি, প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসব খাতের অর্থ পাওয়া যাবে।’

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
বাজেট বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজেট ঘাটতিও